দিল্লি-ঢাকা নিরাপত্তা আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের জাতীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকা শহরে একটি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, “যদি আমরা এক ব্যক্তির সুরক্ষা দিতে না পারি, তবে পুরো টিমের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব?” এই প্রশ্নটি দেশের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় কূটনৈতিক কর্মী ও নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে, যা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মসৃণতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা দাবি করে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি একক স্তরে ব্যর্থ হয়, তবে তা পুরো দলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে, যা কূটনৈতিক মিশনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করবে।
এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থা ইতিমধ্যে সমন্বয় সভা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কূটনৈতিক কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
প্রেক্ষাপট হিসেবে, ভারত ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বন্ধন বজায় রেখেছে, এবং দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বহন করে। এই আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, হোস্ট দেশকে অতিথি দেশের কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান করতে হয়, যা উভয় পক্ষের জন্য অগ্রাধিকার।
উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক মাসে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু ঘটনা মিডিয়ায় আলোচিত হয়েছে, যদিও সেসব ঘটনার বিশদ তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই ঘটনাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন কেবল শারীরিক সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তথ্য নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রোটোকলও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দু’দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য শেয়ারিং বাড়ানোর প্রস্তাব দেন, যাতে সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত সনাক্ত ও মোকাবিলা করা যায়।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে। এতে কূটনৈতিক গৃহের আশেপাশে অতিরিক্ত গার্ড মোতায়েন, নজরদারি ক্যামেরা আপগ্রেড এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অন্তর্ভুক্ত।
দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থা একত্রে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যার মধ্যে নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, জরুরি মহড়া এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া দল গঠন অন্তর্ভুক্ত। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া প্রদান করা।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, উপদেষ্টার এই মন্তব্য কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতিমালার পুনর্গঠন ও শক্তিশালীকরণের দিকে ইঙ্গিত করে। যদিও বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট বলে দাবি করা হয়, তবে একক ব্যর্থতা পুরো মিশনের কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
অবশেষে, উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো ত্রুটি হলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে, এবং উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে। তিনি দু’দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে চলমান সমন্বয়কে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানান, এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।
এই আলোচনার পর, ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করা হবে, যাতে কূটনৈতিক কর্মী ও নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ স্তরে বজায় থাকে।



