ফেনি জেলার বল্লামুখা বেড়িবাঁধে শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) স্থানীয় জনগণ একত্রিত হয়ে মুসাব্বির হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজীদের গ্রেপ্তার দাবি জানায়। প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় আধা ঘণ্টা অবরোধ করে, পুলিশের উপস্থিতি ও দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
মুসাব্বির, যিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, গতকাল (৯ জানুয়ারি) তার স্ত্রী সুরাইয়া সহ দুজনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে পরিবার। দুজনের দেহ স্থানীয় গৃহস্থালির কাছে পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলে রক্তচিহ্ন ও গুলি চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল দে, যিনি মুসাব্বিরের আত্মীয়, বলেন, “মুসাব্বিরের পরিবারকে শোকের মধ্যে ফেলে দিয়ে এখনো কোনো গ্রেপ্তার হয়নি, তাই আমরা পুলিশের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিবাদে উপস্থিত প্রায় দুইশো মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ প্রধানের মতে, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে তদন্তে জড়িত দল সব প্রমাণ বিশ্লেষণ করছে। “প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমরা দ্রুত কাজ করব,” তিনি যোগ করেন।
প্রতিবাদে উপস্থিত কিছু তরুণ সক্রিয় কর্মী রাস্তায় অস্থায়ী বাধা সৃষ্টি করে, তবে কোনো সহিংসতা বা ধ্বংসাত্মক কাজের রিপোর্ট নেই। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মশাল পাঠিয়েছে এবং রাস্তায় গতি সীমিত করে নিরাপত্তা বজায় রেখেছে।
মুসাব্বিরের পরিবার ও সমর্থকরা দাবি করেন, মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে অগ্রসর না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা আদালতে দ্রুত ন্যায়বিচার চায় এবং সন্দেহভাজীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।
অধিকাংশ প্রতিবাদকারীর মতে, মুসাব্বিরের কাজের জন্য তিনি বহু সামাজিক প্রকল্পে জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে দরিদ্র পরিবারকে খাবার সরবরাহ এবং শিক্ষার সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। তার মৃত্যু স্থানীয় সমাজে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবাদে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী রাবিয়া বেগম বলেন, “মুসাব্বিরের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা একটি তহবিল গঠন করেছি, তবে ন্যায়বিচার না হলে এই তহবিলের কাজই থেমে যাবে।” তিনি তহবিলের মাধ্যমে মৃতের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার কথা উল্লেখ করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণের জন্য ফোরেন্স বিশ্লেষণ, গুলি চিহ্নের তুলনা এবং স্থানীয় সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িত দল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অতিরিক্ত তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে, প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলার দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর, ফেনি জেলার অন্যান্য এলাকায়ও মুসাব্বিরের পরিবারকে সমর্থন জানাতে ছোট ছোট সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সমাজের এই সংহতি ও সমবেদনা মুসাব্বিরের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং ন্যায়বিচার অর্জনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ও পরিবার উভয়ই আদালতে দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে।



