৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকায় বিশ্লেষক আলী রীয়াজ সরকারকে ফ্যাসিস্ট পথে অগ্রসর হওয়া থেকে রোধ করার জন্য জাতীয় গণভোটের দাবি জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরাসরি জনগণের ভোটই সংবিধানিকভাবে স্বৈরাচারী প্রবণতাকে সীমাবদ্ধ করার একমাত্র উপায়।
এই বক্তব্যটি সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। রীয়াজের মতে, সাম্প্রতিক সরকারী সিদ্ধান্তগুলো ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং নাগরিক স্বাধীনতার হ্রাসের দিকে ইঙ্গিত করে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ভেনেজুয়েলা তেল শিপমেন্টের অনির্দিষ্টকালীন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ।
সরকারের প্রকাশ্য নোটিশে বলা হয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রণালয় পাঁচটি নির্দিষ্ট ভেনেজুয়েলা কাঁচা তেল শিপমেন্টকে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং এই নিয়ন্ত্রণের সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। একই নোটিশে নির্বাচন কমিশন ভোট সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ ফোন লাইন চালু করবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র জানান, হটলাইনটি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে এবং প্রাপ্ত সব অভিযোগকে বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের অধীনে রেকর্ড ও তদন্ত করা হবে। রীয়াজ এই ব্যবস্থা ও তেল নিয়ন্ত্রণকে একসাথে উল্লেখ করে বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনী তদারকি ও কৌশলগত সম্পদের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্বৈরাচারী শাসনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তিনি রাজনৈতিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ নাগরিককে গণভোটের পক্ষে সমবেত হতে আহ্বান জানান, এটিকে স্বৈরাচারী শাসন থেকে রক্ষার একটি সমষ্টিগত নিরাপত্তা জাল হিসেবে বর্ণনা করেন। এই গণভোটের আহ্বান বছরের প্রথমার্ধে শেষ হওয়া একটি জাতীয় ধর্মঘটের সমাপ্তি এবং সরকারী দরকারি ওষুধের মূল্যের সীমাবদ্ধতা ঘোষণার পরপরই প্রকাশিত হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে তেল শিপমেন্টের নিয়ন্ত্রণকে দেশীয় জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং দামের অস্থিরতা রোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সরকারী সূত্রে কোনো স্বৈরাচারী উদ্দেশ্য বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষুন্ন করার ইচ্ছা নেই বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন এখনো গণভোটের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি, তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এমন কোনো প্রক্রিয়ার জন্য সংবিধানিক সংশোধন এবং সংসদীয় অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
অবিলম্বে ফোন হটলাইন চালু করা নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগের সমাধানে প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও এর কার্যকারিতা ও ফলাফল ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রীয়াজের সমাপনী মন্তব্যে তিনি পুনরায় জোর দেন, জনগণের সরাসরি ভোটই সরকারকে জবাবদিহি করাতে এবং গণতান্ত্রিক নীতির অবক্ষয় রোধে সর্বোত্তম উপায়।



