ফেনী, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ – দেশের প্রধান এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবসায়ীরা গতকাল তাদের ধর্মঘট আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ধর্মঘটের সমাপ্তি সরকারী নোটিশের পরই ঘটেছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। ধর্মঘটের সময় সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি দেখা গিয়েছিল, তবে এখন বাজারে স্বাভাবিক বিক্রয় পুনরায় শুরু হয়েছে।
ধর্মঘটের মূল দাবি ছিল তেল ও গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি শুল্কের হ্রাস, যা ব্যবসায়ীদের মতে দীর্ঘমেয়াদে খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। সরকার এই দাবি নিয়ে আলোচনা করার পর, ধর্মঘট শেষের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এবং তাত্ক্ষণিকভাবে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো বাধা না রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে, ধর্মঘটের সময় গৃহীত কিছু অস্থায়ী পদক্ষেপ এখন বাতিল করা হয়েছে। তদুপরি, সরকার পাঁচটি নির্দিষ্ট ভেনেজুয়েলা তেল বিক্রির উপর অনির্দিষ্টকালীন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। এই তেলগুলো দেশের গ্যাস শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে বলে বলা হয়েছে।
ধর্মঘটের ফলে গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে বাড়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, তবে এখন দাম পুনরায় স্থিতিশীল হতে পারে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, সরবরাহের স্বাভাবিকতা ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে গৃহস্থালির গ্যাস বিলের ওপর চাপ কমে যাবে এবং ব্যবসায়িক খাতের উৎপাদন খরচও হ্রাস পাবে।
এদিকে, ফেনীর বল্লামুখা বেড়িবাঁধে মাটি‑বালু লুটের অভিযোগে স্থানীয় রাভোটের অভিযোগ গ্রহণের জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসিই) ফোনে সেবা দেবে বলে জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও সম্পদ সুরক্ষার দিকে সরকারের মনোযোগ নির্দেশ করে।
ধর্মঘটের সময় গ্যাস সরবরাহে সৃষ্ট ঘাটতি কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন লাইন বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল, যা সাময়িকভাবে অর্থনৈতিক কার্যকলাপে প্রভাব ফেলেছিল। তবে ধর্মঘট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ শুরু করেছে। ফলে, দেশের গ্যাস বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমে যাবে এবং গ্যাসের চাহিদা পূরণে স্বল্পমেয়াদী চাপ হ্রাস পাবে।
বাজার বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারী নীতিমালার ধারাবাহিকতা প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করছেন। বিশেষ করে, ভেনেজুয়েলা তেল বিক্রির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশীয় গ্যাস শিল্প রক্ষা পাবে। এছাড়া, ধর্মঘটের সময় গৃহীত অস্থায়ী শুল্ক হ্রাসের মতো ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে ব্যবসায়িক খাতের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ রক্ষা পায়।
ধর্মঘটের সমাপ্তি ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য ইতিবাচক সংকেত, তবে সরকারকে গ্যাসের মূল্য স্থিতিশীলতা, আমদানি নীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এই দিকগুলোতে সুনির্দিষ্ট নীতি গৃহীত হলে, গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা সহজ হবে এবং গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে গ্যাসের ব্যবহার আরও কার্যকর হবে।
সারসংক্ষেপে, এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের সমাপ্তি দেশের গ্যাস বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে, দাম স্থিতিশীল হবে এবং সরবরাহের ঘাটতি কমবে। সরকার পাঁচটি ভেনেজুয়েলা তেল বিক্রির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় সম্পদ সংরক্ষণে ইসিইয়ের ফোন সেবা গ্রহণের সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভবিষ্যতে গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং বাজারের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



