ঢাকা – পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ক্রীড়া উপদেষ্টার মতামতকে সমর্থন করে জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের সীমার বাইরে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তবে দল ও ভক্তরা ভারতীয় মাটিতে খেলতে পারবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়।
হোসেন বলেন, হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর বাংলাদেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং কথাবার্তা নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলোর জন্য সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা খেলব, তবে ভারতের বাইরে খেলব” এবং এভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মন্তব্যের সঙ্গে হোসেনের সমর্থনও প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, একজন ক্রিকেটারকে যদি ভারতীয় মাটিতে যেতে হয়, তবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, আর তা না হলে দলটি অন্য কোনো দেশে খেলা বেছে নেবে। সমর্থক ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তিনি পুনরায় জোর দেন।
বাণিজ্য সম্পর্কের প্রশ্নে হোসেনের মন্তব্য ভিন্ন রঙের। তিনি স্বীকার করেন, ভারতীয় বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কিছু নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে, তবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশকে চালের মতো মৌলিক পণ্যের সস্তা সরবরাহের সুযোগ থাকে, তবে তা গ্রহণে কোনো আপত্তি নেই। তবে স্বার্থহীনভাবে বাজারে প্রবেশ করা হবে না, বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ার বিষয়েও হোসেন তথ্য দেন। তিনি জানান, মিশনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারত থেকে ভিসা ইস্যু করা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এই পরিস্থিতি ক্রীড়া দল ও ভ্রমণকারী উভয়ের জন্যই প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
হোসেনের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও পুনরায় জোর দেন, যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দলটি ভারতীয় মাটিতে খেলতে ইচ্ছুক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর না হওয়া পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সময়সূচি পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ফেডারেশনও এই বিবৃতি অনুসরণ করে, যে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দলটি বিকল্প ভেন্যুতে খেলা বেছে নেবে। ফেডারেশন উল্লেখ করেছে, ভেন্যু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা, লজিস্টিক্স এবং ভক্তদের প্রবেশের সুবিধা বিবেচনা করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারতীয় মাটিতে ম্যাচ না হওয়া আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও টিকিট বিক্রয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে হোসেনের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণই যুক্তিযুক্ত।
সংক্ষেপে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে খেলবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো বিকল্প নেই। বাণিজ্যিক স্বার্থের ক্ষেত্রে তিনি যুক্তি দেন, স্বার্থ রক্ষার জন্যই বাজারে প্রবেশ করা হবে, তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই অবস্থান ক্রীড়া ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



