ভারতীয় পুরুষ একদিনের আন্তর্জাতিক (ODI) দল ৮ জানুয়ারি বারোডায় অবতরণ করে নতুন জিল্যান্ডের বিপক্ষে শিডিউল করা সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তিন ম্যাচের সিরিজটি ১১ জানুয়ারি বারোডায় প্রথম ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন হবে, এরপরের দুইটি ম্যাচের স্থান ও সময়সূচি এখনও নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলটি আগমনের পরই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রবেশ করে, যেখানে কোচিং স্টাফ ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। ক্যাম্পে মাঠের বিভিন্ন দিক—বাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—পরীক্ষা করা হবে, যাতে শিডিউল করা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য সর্বোত্তম কৌশল নির্ধারণ করা যায়।
বাছাই প্রক্রিয়ায় চারজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে; তাদের মধ্যে শ্রীয়াস ইয়ারের নাম উল্লেখযোগ্য। বাদ দেওয়া খেলোয়াড়দের তালিকা পুরোপুরি প্রকাশ না হলেও, দল গঠনকারী কর্মকর্তারা বলছেন যে নির্বাচনের পেছনে ফর্ম, ফিটনেস এবং দলের সামগ্রিক ভারসাম্যকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে।
ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন এবং কোচের মতে, বর্তমান স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়ের মিশ্রণ রয়েছে, যা টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে। কোচ উল্লেখ করেছেন, “আমরা এমন একটি দল গড়ে তুলেছি যা বিভিন্ন শর্তে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম, এবং আমাদের লক্ষ্য হল ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সিরিজ জয় করা।” এই বক্তব্যটি দলের প্রস্তুতির দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসকে তুলে ধরে।
নিউজিল্যান্ডের দলও একই সময়ে ভারতীয় মাটিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। উভয় দলের মধ্যে প্রথম ম্যাচের আগে কিছু বন্ধুত্বপূর্ণ গেমের পরিকল্পনা রয়েছে, যা উভয় পক্ষকে মাঠের পরিবেশ ও পিচের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দেবে। পিচের গতি ও বাউন্সের ওপর ভিত্তি করে বোলারদের জন্য সুযোগ এবং ব্যাটসম্যানদের জন্য শর্তাবলী কী হবে, তা প্রশিক্ষণ সেশনের সময় বিশ্লেষণ করা হবে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে শ্রীলঙ্কা, রোহিত শর্মা, এবং রাহুল দ্রাবিডের মতো নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট ব্যাটিং অর্ডার এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বোলিং ইউনিটে জেসন বোমার, রাহুল চৌধুরী এবং অন্যান্য দ্রুত বোলারদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত, যা পিচের সহায়ক গতি ও স্পিনের সমন্বয়কে কাজে লাগাবে।
বারোডা স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি দলকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, যেখানে স্থানীয় ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও সমর্থন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামের অবকাঠামো ও সিটিং ক্যাপাসিটি আন্তর্জাতিক মানের, যা উভয় দলের পারফরম্যান্সকে উঁচুতে তুলে ধরবে।
সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন শহরে খেলা হবে, তবে প্রথম ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয় দলের কৌশলগত পরিকল্পনা, মাঠের শর্ত এবং খেলোয়াড়দের ফর্মের ওপর নির্ভর করে সিরিজের ফলাফল নির্ধারিত হবে।
ভারতীয় দল বারোডায় পৌঁছানোর পর থেকে মিডিয়া ও ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছে, সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষণ সেশনের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে। এই যোগাযোগের মাধ্যমে ভক্তদের উত্তেজনা বাড়ছে এবং সিরিজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ভারতীয় ODI দল বারোডায় অবতরণ করে নতুন জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ জানুয়ারি শুরু হওয়া সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চারজন খেলোয়াড় বাদে, স্কোয়াডটি অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে গঠিত, যা সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে কাজ করবে। প্রথম ম্যাচের ফলাফল এবং পরবর্তী গেমের পরিকল্পনা উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।



