ঢাকা – সরকার আজ প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অর্ডিন্যান্সে সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে, যার ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেটা লোকালাইজেশন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা হ্রাস পাবে এবং অপরাধের জন্য কারাবাসের শাস্তি আর থাকবে না।
এই পরিবর্তনগুলো আজ ঢাকা শহরের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকার কর্তৃক নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো (CII) সম্পর্কিত ডেটা দেশের সীমানার মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে। CII শব্দটি সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্সে নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে চিহ্নিত হয়।
পূর্বে, নভেম্বর ২০২২-এ গৃহীত অর্ডিন্যান্সে সব প্রযুক্তি কোম্পানিকে ব্যবহারকারীর ডেটার কমপক্ষে একটি রিয়েল‑টাইম কপি দেশীয় সার্ভারে রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। এখন এই ব্যাপক বাধ্যবাধকতা কেবল সীমাবদ্ধ ব্যক্তিগত ডেটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যার জন্য একটি রিয়েল‑টাইম কপি দেশীয় ক্লাউডে সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
সীমাবদ্ধ ব্যক্তিগত ডেটা বলতে এমন তথ্যকে বোঝানো হয়, যা জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ধরনের ডেটা ছাড়া অন্যান্য ব্যবহারকারীর তথ্যের জন্য এখন স্থানীয় কপি রাখা বাধ্যতামূলক নয়।
শাস্তি সংক্রান্ত বিধানেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে অর্ডিন্যান্সের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাবাস এবং আর্থিক জরিমানা উভয়ই প্রযোজ্য ছিল। নতুন সংশোধনীতে কারাবাসের ধারা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আর্থিক জরিমানা রাখা হয়েছে, যা লঙ্ঘনের পরিণতি সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। মেটা এবং গুগলের মতো বড় কোম্পানি পূর্বে অর্ডিন্যান্সের কিছু ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সরকার তাদের উদ্বেগের আলোকে দুইটি মূল পরিবর্তন এনেছে, যা শিল্পের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে ফেসবুক ও গুগল ব্যবহারকারী সংখ্যা লক্ষ লক্ষ, এবং মেটা ও অ্যালফাবেটের কিছু উদ্বেগের জন্য এই সংশোধনী করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশীয় ডেটা ও ক্লাউড সেবায় আরও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।”
সংশোধনী অনুমোদনের ফলে দেশীয় প্রযুক্তি স্টার্টআপ এবং বহুজাতিক ক্লাউড সেবা প্রদানকারীদের জন্য পরিবেশ আরও বন্ধুত্বপূর্ণ হবে। স্থানীয় ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়বে, যা কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, সীমাবদ্ধ ব্যক্তিগত ডেটার জন্য এখনও কঠোর নিয়ম বজায় থাকবে। এই ডেটা যদি সঠিকভাবে সুরক্ষিত না হয়, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই সরকার এই ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে।
প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে এখন ডেটা সংরক্ষণের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সীমাবদ্ধ ডেটা ছাড়া অন্যান্য তথ্যের জন্য এখনো ক্লাউডে আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষণ করা যাবে, তবে তা নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।
এই নীতিগত পরিবর্তনগুলো দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রাখে। ডেটা সুরক্ষা ও বিনিয়োগের ভারসাম্য রক্ষা করে সরকার প্রযুক্তি খাতের বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে চায়।
সারসংক্ষেপে, নতুন অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে ডেটা লোকালাইজেশন বাধ্যবাধকতা হ্রাস পেয়েছে, কারাবাসের শাস্তি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য স্থানীয় সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো প্রযুক্তি শিল্পে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়িয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন সংশোধিত বিধান অনুযায়ী ডেটা ব্যবস্থাপনা নীতি গঠন করতে হবে এবং আর্থিক জরিমানা এড়াতে নিয়ম মেনে চলতে হবে। সরকারও পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগে সতর্কতা বজায় রাখবে, যাতে ডেটা সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ উভয়ই সুরক্ষিত থাকে।



