আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারড্যাম ২০২৬, ২৯ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এই বছরের অনুষ্ঠানে বিশ্ববিখ্যাত অভিনেত্রী টিল্ডা স্বিনটন, পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা জন লিথগো এবং “দ্য সিক্রেট এজেন্ট” ছবির পরিচালক কলেবের মেন্ডোন্সা ফিলহোসহ বহু বিশিষ্ট শিল্পী অংশ নেবে। উৎসবের আয়োজকরা দুইটি প্রধান আলোচনার সিরিজ ঘোষণা করেছেন: “বিগ টকস” এবং “টাইগার টকস”।
“বিগ টকস” সিরিজে বিভিন্ন শাখার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে আন্তঃবিষয়ক সংলাপের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে সৃজনশীলতা, বিজ্ঞান ও সমাজের সংযোগের ওপর আলোকপাত করা হবে। অন্যদিকে “টাইগার টকস” চলচ্চিত্রের থিম, নারীবাদ, ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং সিনেমার সামাজিক-রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করবে। উভয় সিরিজই আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎসবের সময়কালে শিল্প পেশাদারদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত “আইএফএফআর প্রো ডায়ালগস” প্রোগ্রামও অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রোগ্রামটি ৩০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত “আইএফএফআর প্রো ডেজ” নামে পরিচিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং চলচ্চিত্র উৎপাদন, বিতরণ ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে গভীর আলোচনা হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বিনটন এবং কলেবের মেন্ডোন্সা ফিলহো তাদের নিজস্ব চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করবেন। স্বিনটন তার সাম্প্রতিক কাজের সঙ্গে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হবেন, আর মেন্ডোন্সা ফিলহো আন্তর্জাতিক অস্কার প্রার্থী চলচ্চিত্রের পরিচালক হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করবেন। এছাড়াও সিসিনি বেটের “হার্ট অফ লাইট – ইলেভেন সঙস ফর ফিজি”, অ্যানেমারি জাকির “প্যালেস্টাইন ৩৬”, অলিভিয়ের আসায়াসের “দ্য উইজার্ড অফ দ্য ক্রেমলিন”, মারিও মার্টোনের “ফুয়োরি” এবং ইল্ডিকো এনেডির “সাইলেন্ট ফ্রেন্ড” সহ আরও বহু চলচ্চিত্রের নির্মাতা ও অভিনেতা উপস্থিত থাকবেন।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর মধ্যে রয়েছে সেরজি লোজনিটসার “টু প্রসিকিউটর্স”, কেন্ট জোন্সের “লেট ফেম”, পোম ক্লেমেন্টিয়েফ এবং গুইলোম নিক্লুক্সের যৌথ প্রকল্প “মি আমোর”, মাস্চা শিলিনস্কির “সাউন্ড অফ ফলিং” এবং মালেক বেনসমাইল ও নাবিল আসলির “দ্য আরব”। পাসক্যাল বোনিত্সের “হুগো”, আলাউদা রুইজ দে আজুয়ার “সানডেজ”, ডেভিড ভারবেক ও জেসিকা রেনল্ডসের “দ্য উলফ, দ্য ফক্স, দ্য লেপার্ড” এবং নানুক লেওপোল্ডের “হোয়াইটটেল” ইত্যাদি চলচ্চিত্রের স্রষ্টা-শিল্পীও উপস্থিত থাকবেন।
অতিরিক্তভাবে, অ্যাড্রিয়ান গার্সিয়া বোগ্লিয়ানো, গিগি সল গুয়েরেরো, ইউজেনিও রুবিও, রিকার্ডো মিলানি, আন্দ্রিয়া দি স্টেফানো এবং ক্রিস্টোফার বোয়ের মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা এই উৎসবে তাদের কাজ উপস্থাপন করবেন। তাদের মধ্যে কিছু নতুন প্রকল্পের প্রথম প্রদর্শনীও হবে, যা দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
উৎসবের পরিচালক ভানজা কালুদজেরসিকের মতে, রটারড্যাম ফেস্টিভ্যালের স্বতন্ত্র প্রোগ্রামিং চলচ্চিত্রকে একটি মুক্ত মঞ্চে উপস্থাপন করে, যেখানে শিল্পী ও দর্শক উভয়ই সমৃদ্ধ আলোচনার মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই ইভেন্টটি চলচ্চিত্রের সামাজিক প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক সংলাপকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখে।
রটারড্যাম ফেস্টিভ্যালের এই সংস্করণে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র, সৃজনশীল আলোচনার মঞ্চ এবং শিল্প পেশাদারদের জন্য নেটওয়ার্কিং সুযোগ একত্রিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের প্রবণতা, নতুন কাহিনী এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।
উৎসবের সময়কালে শহরের বিভিন্ন ভেন্যুতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, কর্মশালা এবং পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্থানীয় রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেতে সাংস্কৃতিক বিনিময়ও হবে। রটারড্যাম শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও আধুনিক শিল্পকলা সমন্বিত পরিবেশ এই আন্তর্জাতিক সমাবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
উৎসবের শেষ দিন, ৮ ফেব্রুয়ারি, একটি সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বছরের সেরা চলচ্চিত্র ও সৃষ্টিকর্তাদের স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সারসংক্ষেপে, রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬ একটি বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ প্রোগ্রাম নিয়ে আসছে, যেখানে টিল্ডা স্বিনটন, জন লিথগো এবং কলেবের মেন্ডোন্সা ফিলহোসহ বহু বিশিষ্ট শিল্পীর উপস্থিতি দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। চলচ্চিত্রের শিল্প, সামাজিক প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক সংলাপের নতুন দৃষ্টিকোণ অন্বেষণ করতে ইচ্ছুক সকলের জন্য এই উৎসবটি একটি অপরিহার্য মঞ্চ হয়ে উঠবে।



