রাশিয়ার সংসদ সদস্য আলেক্সি জুরাভলেভ ইনস্টাগ্রাম থেকে প্রকাশিত পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ান তেল ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনাকে দস্যু কাজ বলে নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সশস্ত্র জাহাজের আক্রমণে “মার্কিনি” নামের রাশিয়ান ট্যাঙ্কারকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক সমুদ্রে অবৈধ কাজের উদাহরণ।
জুরাভলেভের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ফ্লিট ট্যাঙ্কারকে টর্পেডো দিয়ে আক্রমণ করেছে এবং কয়েকটি আমেরিকান কোস্টগার্ড কাটার ডুবে গেছে। তিনি আরও জানান, রাশিয়ান সাবমেরিন এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে উপস্থিত ছিল, তবে সেগুলোকে কোনোভাবে ব্যবহার করা হয়নি।
এই ঘটনার পর তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আহ্বান জানান, “যুক্তরাষ্ট্রকে নাকে ঘুষি মারতে হবে”। জুরাভলেভ যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্র হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও নিজের উপকূল রক্ষা করতে সক্ষম, তবে রাশিয়ার সমুদ্রসীমা থেকে আসা এই ধরনের বার্তা তার কৌশলগত গুরুত্বকে তুলে ধরে।
মার্কিনি কার্যক্রমের পটভূমিতে তিনি ভেনেজুয়েলায় বিশেষ অভিযানের উল্লেখ করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর দেশটি স্বল্প সময়ের জন্য আত্মবিশ্বাসের উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিল। জুরাভলেভের মতে, একই রকম আত্মবিশ্বাসের উন্মাদনা যুক্তরাষ্ট্রকে থামাতে একমাত্র উপায় হল সরাসরি এবং দৃঢ় প্রতিক্রিয়া, যা তিনি “নাকে ঘুষি মারা” শব্দে প্রকাশ করেছেন।
দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই ধরনের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। জুরাভলেভের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, রাশিয়ান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক কার্যক্রমকে কেবল একক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে দেখছে।
রাশিয়ান পার্লামেন্টের এই উচ্চপদস্থ সদস্যের প্রকাশনা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি, তার ভাষ্য রাশিয়ার নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে আলোচনা পুনরায় চালু হতে পারে। তবে জুরাভলেভের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, রাশিয়া তার সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার জন্য আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে ইচ্ছুক এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে।
সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ান সংসদ সদস্যের এই আহ্বান রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা এবং পারমাণবিক শক্তি হিসেবে উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থের সংঘর্ষকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিবৃতি দু’দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।



