22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআইন উপদেষ্টা আসিফ নাজরুলের মতে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ইন্ডেম্নিটি অর্ডিন্যান্সের খসড়া পরবর্তী...

আইন উপদেষ্টা আসিফ নাজরুলের মতে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ইন্ডেম্নিটি অর্ডিন্যান্সের খসড়া পরবর্তী কাউন্সিল সভায় উপস্থাপন হবে

আইন উপদেষ্টা আসিফ নাজরুল আজ তার নিশ্চিত ফেসবুক প্রোফাইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, জুলাই ২০২৩-এ সংঘটিত বিদ্রোহের অংশগ্রহণকারীদের জন্য ইন্ডেম্নিটি অর্ডিন্যান্সের খসড়া পরবর্তী কাউন্সিল অব অ্যাডভাইজারসের সভায় উপস্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল ওই যোদ্ধাদের আইনগত সুরক্ষা প্রদান করা।

নাজরুলের পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা দেশের শাসনকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করতে নিজেদের প্রাণ ঝুঁকিয়েছেন, তাদেরকে স্বাভাবিকভাবে ইমিউনিটি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি এই যুক্তি দিয়ে ইন্ডেম্নিটি আইনকে দেশের স্বাধিনতা ও গণতন্ত্রের রক্ষার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই উত্থানের সময় শীঘ্রই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গৃহীত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলিকেও এই ইন্ডেম্নিটি কাভার করবে বলে নাজরুল উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরণের সুরক্ষা না থাকলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নাজরুল উল্লেখ করেন, আরব স্প্রিং এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পর বহু দেশে অনুরূপ ইন্ডেম্নিটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই উদাহরণগুলোকে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে দেখিয়েছেন, যেখানে একই ধরনের আইনি সুরক্ষা প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ধারা ৪৬ ইন্ডেম্নিটি আইন প্রণয়নের ভিত্তি প্রদান করে। নাজরুল উল্লেখ করেন, ১৯৭৩ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহীত ইন্ডেম্নিটি আইনই এই ধারা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ের আইনি কাঠামোকে তিনি বর্তমান খসড়ার বৈধতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া অর্ডিন্যান্স প্রস্তুত করেছে, যা নাজরুলের মতে শীঘ্রই কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে। তিনি আশাবাদী যে, পরবর্তী সভায় এই খসড়া অনুমোদিত হয়ে আইনসভার সামনে পৌঁছাবে।

কাউন্সিলের এই সভায় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও অংশগ্রহণ করে তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে, যদিও সেসব দাবির বিশদ প্রকাশ করা হয়নি। এই দাবিগুলো সম্ভবত অর্থনৈতিক নীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানান, ইন্ডেম্নিটি অর্ডিন্যান্সের অনুমোদন হলে জুলাই উত্থানের আইনি মূল্যায়ন পরিবর্তিত হতে পারে এবং অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ মামলায় বাধা সৃষ্টি হবে। ফলে সরকার এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই উদ্যোগকে ইতিহাসের পুনর্লিখন এবং আইনি দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করতে পারে। ফলে পার্লামেন্টে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

পরবর্তী কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে আসন্ন সংসদীয় সেশনের প্রস্তুতিতে। ইন্ডেম্নিটি অর্ডিন্যান্সের গৃহীত হওয়া বা না হওয়া উভয়ই দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments