সিয়াটল‑ভিত্তিক এআই‑চালিত ই‑কমার্স স্টার্ট‑আপ স্প্যাংল, প্রাক্তন বোল্ট সিইও মাজু কুরুভিল্লার নেতৃত্বে, নতুন ফান্ডিং রাউন্ডে ১৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই তহবিলের পর কোম্পানির মূল্যায়ন ১০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। স্প্যাংলের লক্ষ্য হল রিটেইলারদের শপিং অভিজ্ঞতা রিয়েল‑টাইমে ব্যক্তিগতকরণ করা, যাতে গ্রাহকের পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য সুপারিশ ও লেআউট সরবরাহ করা যায়।
নতুন রাউন্ডটি সম্পূর্ণ ইক্যুইটি সিরিজ‑এ রূপে, এবং নিউরোড ক্যাপিটাল পার্টনার্সের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। পূর্বে মার্চ ২০২২‑এ গোপনীয় অবস্থায় থেকে বেরিয়ে আসার এক বছর পর, স্প্যাংল প্রথমে ৬ মিলিয়ন ডলার সিড রাউন্ডে ৩০ মিলিয়ন ডলার প্রি‑মানি মূল্যায়নে তহবিল সংগ্রহ করেছিল। এই নতুন রাউন্ডের মাধ্যমে মোট তহবিল ২১ মিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিউরোড ক্যাপিটাল পার্টনার্সের পাশাপাশি, মাদ্রোনা, ডিএনএক্স ভেঞ্চার্স, স্ট্রিমলাইনড ভেঞ্চার্স এবং কিছু কৌশলগত এঞ্জেল ইনভেস্টরও এই রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। এই বিনিয়োগকারীরা স্প্যাংলের প্রযুক্তিগত দিক এবং বাজারে তার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে।
ই-কমার্স ক্ষেত্রে গ্রাহকের পণ্য অনুসন্ধান পদ্ধতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। এআই টুল, সামাজিক মিডিয়া এবং রিকমেন্ডেশন ইঞ্জিনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, শপিং সিদ্ধান্তগুলো ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইটে পৌঁছানোর আগেই গঠিত হচ্ছে। এই প্রবণতা রিটেইলারদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা স্প্যাংলের সমাধান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
স্প্যাংলের সফটওয়্যার রিটেইলারদেরকে গ্রাহকের বর্তমান প্রসঙ্গের ভিত্তিতে রিয়েল‑টাইম পণ্য সুপারিশ ও পেজ লেআউট তৈরি করতে সক্ষম করে। প্রচলিতভাবে গ্রাহককে পূর্বনির্ধারিত ক্যাটেগরি বা প্রোডাক্ট পেজে পাঠানোর বদলে, স্প্যাংল একটি শূন্য পেজে ট্রাফিক রাউট করে এবং এআই‑এর মাধ্যমে তা পূরণ করে। এই পদ্ধতি গ্রাহকের আগ্রহের সঙ্গে সরাসরি মিলিয়ে পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ দেয়।
গত বছর মার্চ গোপনীয় অবস্থায় থেকে বেরিয়ে আসার পর, স্প্যাংল ইতিমধ্যে নয়টি এন্টারপ্রাইজ গ্রাহক অর্জন করেছে। এর মধ্যে ফ্যাশন রিটেইলার রিভলভ, আলেক্সান্ডার ওয়াং এবং স্টিভ ম্যাডেন অন্তর্ভুক্ত, যাদের সম্মিলিত অনলাইন বিক্রয় প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার। এই গ্রাহকরা স্প্যাংলের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবাহিত ট্রাফিকের গুণগত মান বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
স্প্যাংলের প্ল্যাটফর্মে ট্রাফিকের বৃদ্ধি মাসে মাসে প্রায় ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে, এবং সব গ্রাহকই সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে। কোম্পানি জানিয়েছে যে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে তাদের বার্ষিকীকৃত রাজস্ব চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। এই দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে রিয়েল‑টাইম এআই সুপারিশের কার্যকারিতা এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতা উন্নত করার ক্ষমতা রয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে, স্প্যাংলের মূল মডেলটি ‘প্রোডাক্টজিপিটি’ নামে পরিচিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এআই মডেল। এই মডেল গ্রাহকের উৎস, অনুসন্ধান কীওয়ার্ড, ক্লিক ইতিহাস এবং অনুরূপ ভিজিটরদের আচরণ বিশ্লেষণ করে রিয়েল‑টাইমে পণ্য, সুপারিশ এবং কন্টেন্ট তৈরি করে। ফলে গ্রাহকের বর্তমান অবস্থান ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গঠন হয়।
প্রোডাক্টজিপিটি ব্যবহার করে তৈরি হওয়া পেজগুলো সম্পূর্ণভাবে কাস্টমাইজড, ফলে গ্রাহকের কেনাকাটার সম্ভাবনা বাড়ে। রিটেইলাররা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচলিত ক্যাটেগরি পেজের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায় এবং গ্রাহকের যাত্রা অনুযায়ী ডাইনামিক কন্টেন্ট প্রদান করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এআই‑চালিত ব্যক্তিগতকরণ ভবিষ্যতে ই‑কমার্সের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। স্প্যাংলের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো রিটেইলারদেরকে গ্রাহকের আচরণগত ডেটা রিয়েল‑টাইমে ব্যবহার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে, যা বিক্রয় বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি উভয়ই বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, স্প্যাংলের তহবিল সংগ্রহ এবং মূল্যায়ন বৃদ্ধি তার প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও বাজারের চাহিদার সমন্বয়কে নির্দেশ করে। এআই‑ভিত্তিক পণ্য সুপারিশের মাধ্যমে রিটেইলাররা গ্রাহকের কেনাকাটার যাত্রাকে আরও স্বজ্ঞাত ও আকর্ষণীয় করতে পারবে, যা ই‑কমার্সের পরবর্তী পর্যায়ের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
এই উন্নয়নটি ই‑কমার্স ইকোসিস্টেমে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে, যেখানে রিয়েল‑টাইম ডেটা এবং এআই মডেলগুলো গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। স্প্যাংলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রিটেইলারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে, যা শিল্পের পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করবে।



