যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে প্রযোজ্য হবে এবং এতে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল এমন দেশগুলো থেকে আসা যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সেবা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাদের প্রবেশ সীমিত করা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বললেন, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং অভিবাসন সমস্যায় ভুগছে এমন সব দেশের জন্য প্রযোজ্য।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি দীর্ঘদিনের একটি ধারাবাহিকতা এবং কোনো হঠাৎ পরিবর্তন নয়। তিনি বলেন, এক বছরের মধ্যে হঠাৎ এই ধরনের শর্ত আরোপ করা হলে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, তবে নীতি নিজেই পুরনো এবং পূর্বের সরকারগুলোর নীতিগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত। তাই বর্তমান সরকারকে একা দোষারোপ করা যথাযথ নয়।
অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যার ওপর আলোকপাত করে তৌহিদ হোসেন বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করা ছাড়া মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা কমবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সেবা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এই নীতি গৃহীত হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করেন। তৌহিদ আরও উল্লেখ করেন, মধ্যধারার দেশগুলো থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও পর্যটক ভিসা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দেওয়া একটি বড় সমস্যা, যা না থামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন যুক্ত হওয়া অধিকাংশ দেশের জন্য এই শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এ সময় পর্যন্ত তালিকায় থাকা দেশগুলো ইতিমধ্যে এই নীতি মেনে চলছে। দপ্তর উল্লেখ করেছে, ভিসা বন্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক জামানত প্রদান করতে হবে, যাতে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের সম্ভাবনা কমে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই নীতিকে বাংলাদেশের অভিবাসন নীতি পুনর্বিবেচনার একটি সংকেত হিসেবে দেখছেন। বর্তমান সরকারকে এখনই কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শর্তে কোনো বাধা না আসে। তৌহিদ হোসেনের মতামত অনুযায়ী, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ না করা পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকবে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে বাংলাদেশের চিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শেষ কথা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি কোনো অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ এবং দেশের অভিবাসন প্রবণতা অনুযায়ী গৃহীত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশও তার অভিবাসন নীতি শক্তিশালী করে এই ধরনের আন্তর্জাতিক শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এই নীতি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ভিসা আবেদনকারীদের আর্থিক জামানত সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের যাচাই বাড়াবে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সরকারকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড নীতি দীর্ঘদিনের অভিবাসন সমস্যার সমাধান হিসেবে গৃহীত হয়েছে, এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশকে এই শর্ত মেনে চলতে হবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তৌহিদ হোসেনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, নীতি পরিবর্তন কোনো একক সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ধারাবাহিকতা। ভবিষ্যতে এই নীতি কীভাবে প্রয়োগ হবে এবং বাংলাদেশের অভিবাসন নীতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে থাকবে।



