সকালবেলায় চট্টগ্রাম বিভাগের মিরশরাই উপজেলা হাদিরফাকিরহাট এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর ঢাকা‑চট্টগ্রাম পাইপলাইনের একটি অংশ ফাটল ধরায়, ফলে ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ক্রমাগত বেরিয়ে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা অস্বাভাবিক গন্ধ ও তেলচাপা লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ সতর্ক হয় এবং ঘটনাস্থলে সমাবেশ করে।
অবিলম্বে পুলিশ, বিপিসি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দ্যুতি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ফাটলযুক্ত অংশের চারপাশে নিরাপত্তা বজায় রাখে এবং তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে একটি গ্যাং পাইপলাইনের পাশে অস্থায়ী কাঠামো গড়ে জ্বালানি চুরি করছিল। এই গ্যাংটি গোপনে ট্যাংক থেকে তেল টেনে নিয়ে বিক্রি করত, তবে কোনো প্রকাশ্য চিহ্ন না থাকায় তাদের কাজ লুকিয়ে ছিল।
পাইপলাইন ফাটল ঘটার পরই তেল প্রবাহের ধারা ভেঙে গ্যাংয়ের চোরাচালান প্রকাশ পায়। ফাটল ছাড়া এই অবৈধ কার্যক্রমের কোনো সূচক পাওয়া যেত না, ফলে চোরাচালান দীর্ঘদিন গোপনেই চলছিল।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের现场 পরিদর্শন করে জানান, ঘটনাস্থলে বিপিসি, পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দ্যুতি সেবা কর্মীরা দ্রুত ফাটলযুক্ত অংশটি মেরামত করে তেল প্রবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।
দ্যুতি সেবা কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের অংশটি সিল করে, লিকেজ বন্ধ করার জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন এবং তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকা পরিষ্কার করেন। মেরামতের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তেল প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়।
কাদেরের মতে, পাইপলাইন ফাটল না ঘটলে গ্যাংয়ের চোরাচালান কখনো প্রকাশ পেত না; ফাটলই এই অবৈধ কার্যক্রমের উন্মোচন ঘটিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিক তদন্তে গ্যাংয়ের অস্থায়ী কাঠামোর মালিক এবং তা ভাড়া নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশ বর্তমানে গ্যাংয়ের সদস্য ও সহায়তাকারী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্যাংয়ের সদস্যদের ওপর জ্বালানি চুরি, অবৈধ বিক্রয় এবং পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হবে।
বাংলাদেশের জ্বালানি চুরি সংক্রান্ত আইন অনুসারে, জ্বালানি চুরি ও অবৈধ বিক্রয় অপরাধে শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সংগ্রহ এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর করার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ফাটল ও তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অস্থায়ী উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে দ্যুতি সেবা ও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, কোনো বড় আঘাত বা বিস্তৃত আগুনের ঘটনা রোধ করা যায়।
বর্তমানে ঘটনাস্থল সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে এবং তেল প্রবাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পরবর্তী ধাপের তথ্য জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে।



