জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর বুধবার থেকে শুরু হয়েছে, যেখানে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে উচ্চপদস্থ আমেরিকান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সফরের সময়সূচি জানানো হয়েছে যে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে রেমিট্যান্স, ভিসা এবং ভ্রমণ নীতিতে কঠোরতা আনা হয়েছে। এই নীতিগুলোকে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রবাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের দৃষ্টিতে।
এই প্রেক্ষাপটে খলিলুর রহমানের সফরকে দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির সমন্বয় সাধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় সময় অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি সকালে ওয়াশিংটনে পৌঁছাবেন এবং পরের দুই দিন, ৮ ও ৯ জানুয়ারি, বিভিন্ন বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নেবেন।
সফরের মূল বৈঠকগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে একটি আলোচনা। এই বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরও উপস্থিত থাকবেন।
বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার জন্যও সময় নির্ধারিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে খলিলুর রহমানের একটি বৈঠক নির্ধারিত, যেখানে সাম্প্রতিক শুল্ক নীতি এবং পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে। এই আলোচনার ফলাফল দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুনর্গঠন করতে পারে।
বাণিজ্যিক আলোচনার পাশাপাশি, সফরে নির্বাচনী বিষয়ক বিশদ আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে উচ্চপদস্থ আমেরিকান কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনার পর্যালোচনাও সফরের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি বাংলাদেশে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, তাই এই বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা প্রয়োজন।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠান ৯ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে খলিলুর রহমানের উপস্থিতি প্রত্যাশিত, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে দৃঢ় করার একটি সংকেত হতে পারে।
শপথ অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অথবা উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যাঙ্গডা শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
নতুন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তার আগমন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং খলিলুর রহমানের সফর এই পরিবর্তনের পূর্বভূমি গঠন করবে।
সফরের সময় নির্বাচনী প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক নীতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করার প্রত্যাশা রয়েছে।
এই সফরকে দেশের কূটনৈতিক ক্যালেন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যেখানে নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে সমাধান করা হবে। ভবিষ্যতে এই আলোচনার ফলাফল কীভাবে দেশের নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।



