পাকিস্তান একদিনের দল অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক আচরণকে অখেলোয়াড়সুলভ বলে সমালোচনা করেছেন। এশিয়া কাপের সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাত মেলানোর কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি, যা আফ্রিদি ও তার সঙ্গীদের নজরে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ধরনের আচরণের প্রতিক্রিয়া তারা মাঠে দিয়ে দেখাবে।
আফ্রিদি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিগ ব্যাশ লিগে অংশগ্রহণের পর দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সামনে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তের পারের মানুষজনের আচরণ ক্রীড়া নৈতিকতা ও স্পোর্টসম্যানশিপের মানকে ক্ষুন্ন করেছে। তার কথায় স্পষ্ট যে, তিনি এবং তার দল এই বিষয়টি নিয়ে কোনো নীরবতা বজায় রাখবে না।
শাহিনের মন্তব্যের মূল বিষয় হল, ভারতীয় দলের অখেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের ফলে দু’দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়ছে। তিনি বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক, তবে তা যদি ভদ্রতা ও পারস্পরিক সম্মানের সীমা অতিক্রম করে, তবে তা স্বীকারযোগ্য নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলছেন, মাঠে সত্যিকারের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে।
বর্তমানে পাকিস্তান দল শ্রীলঙ্কা সফরে রয়েছে এবং তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান দল জয়লাভ করে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জয়কে ভিত্তি করে দল পরবর্তী দুই ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্যে কাজ করছে।
শ্রীলঙ্কা সফরের সময় পাকিস্তান দল স্থানীয় পিচের বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নিচ্ছে। কোচিং স্টাফের নির্দেশনায় ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই সূক্ষ্ম সমন্বয় করা হচ্ছে। খেলোয়াড়রা বিশেষ করে স্পিনের ব্যবহার ও পিচের গতি সম্পর্কে বিশদ বিশ্লেষণ করছেন।
প্রথম ম্যাচের জয়কে পেছনে রেখে, দল পরবর্তী দুই ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। সিরিজের শেষ ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার ঘরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় ভক্তদের সমর্থন প্রত্যাশিত। পাকিস্তান দল এই সুযোগকে ব্যবহার করে শ্রীলঙ্কার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
ইন্ডিয়া- পাকিস্তান ক্রিকেটের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই মুহূর্তে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। আফ্রিদি স্পষ্টভাবে বলছেন, কোনো দল যদি মাঠের বাইরে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করে, তবে তা মাঠে সঠিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সংশোধন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে দু’দেশের খেলোয়াড়রা পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে ক্রীড়া মানদণ্ডকে উঁচুতে তুলে ধরবে।
শাহিন আফ্রিদি এবং তার দল এখন শ্রীলঙ্কা সিরিজের শেষ পর্যন্ত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে, যাতে তারা মাঠে তাদের ক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে। ইন্ডিয়ান দলের সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনো মুখোমুখি হলে, পাকিস্তান দল স্পোর্টসম্যানশিপের সত্যিকারের মানদণ্ড দিয়ে উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকবে।



