রংপুরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জড়িত একটি চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের ২৮ বছর বয়সী গোলাম কিবরিয়া এবং একই এলাকার গোপাল চন্দ্রের ২৭ বছর বয়সী সুমন চন্দ্র।
গোলাম কিবরিয়া এবং সুমন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের লাইন্স মোড় এলাকায় অবস্থিত একটি বেকারিতে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং কানের ভেতরে বসানো যায় এমন ক্ষুদ্র ওয়ারলেস হেডফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান, চক্রটি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে প্রার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালু করা অভিযানেই সংশ্লিষ্ট দুই সন্দেহভাজনকে ধরা পড়ে।
চক্রের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জানা যায়, পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রশ্নগুলো চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠানো হতো। প্রশ্নপত্র গ্রহণের পর দ্রুত সমাধান করে, উত্তরগুলো ক্ষুদ্র হেডফোনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর কানে পৌঁছে দেওয়া হতো।
গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল কপি পেয়ে তারা তা দ্রুত বিশ্লেষণ করে, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর কাছে হেডফোনের মাধ্যমে উত্তর প্রেরণ করত। এই পদ্ধতি তাদেরকে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিত।
পুলিশের মতে, চক্রের সদস্যরা প্রশ্নপত্রের কপি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে, তা সমাধান করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। সমাধান সম্পন্ন হলে, উত্তরগুলো রিয়েল‑টাইমে হেডফোনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর কানে পৌঁছে দিত, ফলে পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির শিকার হতো।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন (আইসিটি আইন) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আইসিটি আইনের অধীনে অপরাধমূলক প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ জানায়, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য সন্দেহভাজনদেরও গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালিয়ে যাবে। গোয়েন্দা শাখা ইতিমধ্যে অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালু করেছে এবং সম্ভাব্য সহায়কদের সন্ধানে কাজ করছে।
উল্লেখযোগ্য যে, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণ থেকে চক্রের কার্যক্রমের পরিধি ও অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যাবে।
এই ঘটনার পর রংপুরে অনুষ্ঠিত হওয়া অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা এখন থেকে প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল সুরক্ষা ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে বলে জানিয়েছে।
অধিক তদন্তের ফলস্বরূপ, চক্রের কার্যক্রমের সম্পূর্ণ চিত্র প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনি দায়িত্বে টানা হবে। আদালতে মামলার শুনানি শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা, যা শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপ ও আইনি প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ধরনের জালিয়াতি রোধে দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলা হবে।



