20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ: ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করতে সহিংসতা চালিয়ে

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ: ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করতে সহিংসতা চালিয়ে

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নষ্টের অভিযোগ তুলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান তেজগাঁও, ঢাকা এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর পাশাপাশি নারী ও শিশুর ওপর ধর্ষণ এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার তথ্য উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেজগাঁওতে গুলিবিদ্ধ মুসাব্বিরের মৃত্যু একটি পরিকল্পিত আক্রমণ, যেখানে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলোকে সংগঠন দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়াতে গোপন পরিকল্পনার অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ার কথা জানিয়ে দেয়। কয়েকদিনের মধ্যে হিন্দু ব্যক্তিদের ওপর গুলি, আক্রমণ এবং সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে, যা সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালু করা একটি কৌশলগত কার্ড হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

সংগঠন দাবি করে, জুলাই মাসে হাদি ও মুসাব্বিরসহ কয়েকজন যোদ্ধার হত্যা করা হয়েছে এবং সেসব হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের রক্তপাত বাড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করা হচ্ছে। এই আক্রমণগুলোকে দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র নষ্ট করা এবং অস্থায়ী সরকারের ক্ষমতা হ্রাসের পরিকল্পনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের পেছনে কাজ করা গোষ্ঠীর সঙ্গে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, শীঘ্রই নির্বাচনের তারিখ নিকটবর্তী হওয়ায় এই ধরনের সহিংসতা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

বিবৃতিতে শাসনকর্তা শেখ হাসিনার অধীনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য ও দলীয় অস্ত্রধারীদের কাজের অশ্রান্তি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা এখনও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বসে আছে, যদিও তারা পূর্বে ঘটিত সহিংসতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের সময়ের শীর্ষ সৈনিক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গুলিবিদ্ধের পর কীভাবে অপরাধী পালিয়ে গেছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এই ঘটনাগুলোকে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংগঠন যুক্তি দেয়, জুলাই বিপ্লবের সময় একদল মানুষ আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি সমান সমাজ গড়ার চেষ্টা করেছিল, তবে বর্তমান গোষ্ঠী সেই স্বপ্নকে বাধা দিতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। এই কৌশলগুলোর মধ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, ভয় সৃষ্টি এবং নির্বাচনী পরিবেশকে নষ্ট করা অন্তর্ভুক্ত।

মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, দেশের অভ্যন্তরে একটি দুষ্ট চক্র গঠন করে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়ে এই চক্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত তদন্তের দাবি করেন।

বিবৃতিতে গ্রেফতারকৃত এক প্রতিবাদী আলেমের নিরপরাধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠন দাবি করে, তার বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা ন্যায়সঙ্গত না হয়ে অতিরিক্ত দমনমূলক রূপ নেয়।

সামগ্রিকভাবে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলে, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা এবং রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments