ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া, চীন, ইরান ও কিউবার সামরিক ও গোয়েন্দা উপদেষ্টাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এই দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমেরিকান কর্মকর্তাদের বার্তা উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেত্রী ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে গোপনীয় বৈঠকে এই শর্তগুলো তুলে ধরেছেন।
মার্কো রুবিও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি বন্ধ দরজার বৈঠকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতৃত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল ওই চার দেশের গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মীদের দেশ থেকে বের করা, যদিও কিছু কূটনৈতিক কর্মীকে অনুমতি দেওয়া হতে পারে। রুবিও পূর্বে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলা আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের জন্য কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
এই চাপের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক পরিকল্পনা, যা জানুয়ারি ৩ তারিখে নিকোলাস মাদুরোর ধরা পড়ার পর ত্বরান্বিত হয়েছে। মাদুরোকে একটি মার্কিন সামরিক অভিযানে আটক করার পর ডেলসি রদ্রিগেস অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তৎক্ষণাৎ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা বাড়িয়ে তুলেছে।
অতএব, রুবিও রদ্রিগেসের সঙ্গে তেল বিষয়েও আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি হল ভেনেজুয়েলা পুনরায় তেল বাণিজ্য শুরু করবে এবং আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলোকে দেশীয় বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেবে। এর জন্য ভেনেজুয়েলাকে তার তেলজাত সম্পদের জাতীয়করণ নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে, অথবা নীতি শিথিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের অর্থনৈতিক শর্তাবলী যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চাপে আরেকটি স্তর যোগ করে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার এখন এই চাহিদাগুলো কীভাবে মোকাবেলা করবে তা নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। রদ্রিগেসের সরকার যদি রাশিয়া, চীন, ইরান ও কিউবার উপদেষ্টাদের বহিষ্কারে সম্মতি দেয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে, যদি এই চাহিদা প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে ভেনেজুয়েলা আরও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে পারে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে। রদ্রিগেসের সরকারকে যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে হয়, তবে তা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। তদুপরি, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নও অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় রাশিয়া, চীন, ইরান ও কিউবার সামরিক ও গোয়েন্দা উপদেষ্টাদের বহিষ্কারের দাবি দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ডেলসি রদ্রিগেসের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলা কীভাবে এই চাপে সাড়া দেবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



