বাংলাদেশ ব্যাংক আজ একটি নির্দেশিকা জারি করে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করেছে যে, বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স প্রাপ্তির একই ব্যবসায়িক দিন অথবা পরের ব্যবসায়িক দিনে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল সীমান্ত পারাপারের পেমেন্টে দেরি কমিয়ে কার্যকারিতা বাড়ানো।
নতুন নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর হবে, তবে পুরোপুরি মানা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পরিবর্তনশীল সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নতুন প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়া মাত্র ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ ইলেকট্রনিক চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। এই স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন সিস্টেম গ্রাহকের তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সকে একই ব্যবসায়িক দিনে ক্রেডিট করা হবে, আর কাজের সময়ের বাইরে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সকে পরের ব্যবসায়িক দিনে জমা দিতে হবে। এই সময়সীমা অনুসরণ করলে গ্রাহকের তহবিল দ্রুত ব্যবহারযোগ্য হবে।
প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (STP) অথবা ঝুঁকি-ভিত্তিক ত্বরিত প্রক্রিয়া গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিগুলো ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ কমিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
যদি রেমিট্যান্সের মূল তথ্য সম্পূর্ণ থাকে, তবে কিছু ডকুমেন্ট বা কমপ্লায়েন্স চেক বাকি থাকলেও অ্যাকাউন্টে তহবিল ক্রেডিট করা যাবে। বাকি প্রয়োজনীয়তা পরে সম্পন্ন করে রেকর্ড আপডেট করা হবে।
কিছু ক্ষেত্রে পোস্ট-ক্রেডিট রিভিউ সম্ভব না হলে ব্যাংকগুলোকে প্রি-ক্রেডিট যাচাই করে তিন ব্যবসায়িক দিনের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। এই শর্তে লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
নতুন নির্দেশিকায় ব্যাংকগুলোকে শেষ দিনের নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে intraday (দিনের মধ্যে) ক্রেডিট নিশ্চিতকরণ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এতে লেনদেনের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
রেকনসিলিয়েশন সিস্টেমকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যাংকগুলোকে ৬০ মিনিটের বেশি সময় না করে রেকনসিলিয়েশন সম্পন্ন করতে হবে। নিয়মিত ও দ্রুত রেকনসিলিয়েশন ত্রুটি কমিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
প্রতিটি রেমিট্যান্সের জন্য ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (UETR) ব্যবহার করে রেমিট্যান্সের প্রাপ্তি থেকে শেষ ক্রেডিট পর্যন্ত ট্র্যাক করা হবে। এই ট্র্যাকিং সিস্টেম গ্রাহক ও ব্যাংকের জন্য লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
এই সকল ব্যবস্থা রেমিট্যান্সের সময় কমিয়ে মাইগ্র্যান্ট কর্মী, পরিবার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত তহবিলের প্রবাহ নিশ্চিত করবে। ত্বরিত পেমেন্ট প্রক্রিয়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের স্থিতিশীলতা ও বাজারের আস্থা বাড়াবে।
একই সময়ে, এনার্জি সেক্টরে ভারতের ওপর দ্বিমুখী চাপ বাড়ার খবর দ্য হিন্দু প্রকাশ করেছে, যা অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিবেশে অতিরিক্ত জটিলতা যোগ করতে পারে। তবে রেমিট্যান্স প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও স্বচ্ছতা উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশিকা রেমিট্যান্সের দ্রুততা, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রক্রিয়া গ্রহণ, রেকনসিলিয়েশন সময় কমানো এবং ইউনিক রেফারেন্স ব্যবহার করতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের আর্থিক বাজারের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াবে।



