মাল্টি-পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ) কুমিল্লা শহরে ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার একটি সংলাপ সভা আয়োজন করে, যেখানে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থীরা একত্রিত হন। সন্ধ্যাবেলায় শহরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সমন্বয় ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্য বহন করে।
এমএএফের উদ্যোগে আয়োজন করা এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং নাগরিক সমাজকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করা। সংগঠকরা উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তাই সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।
সংলাপটি কুমিল্লার একটি পরিচিত হোটেলের সম্মানজনক হলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিতদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছিল। হোটেলের মঞ্চে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা একে অপরের মতামত শোনার এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নির্ধারণের সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভায় এমএএফ কুমিল্লা শাখার সভাপতি বদরুল হুদা জানুয়ারি সভাপতিত্ব করেন। তিনি সভার সূচনা করে সকল দলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনের শান্তিপূর্ণতা বজায় রাখার জন্য যৌথ দায়িত্বের কথা জোর দেন।
বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, যুব-জামায়াত কুমিল্লা মহানগর সভাপতি কাজী নাজির আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন কুমিল্লা মহানগর সভাপতি এম এম বিল্লাল হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা জেলার প্রধান সমন্বয়ক মো. সিরাজুল হক এবং কুমিল্লা‑৪ আসনের গণঅধিকার পরিষদের এমপি পদপ্রার্থী জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকেই নির্বাচনের সময় শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে কনসালটেন্ট রুবাইয়াত হাসান সংলাপের সঞ্চালনা করেন এবং এমএএফের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান দোলন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দোলন উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য শুধুমাত্র কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত হওয়া দরকার, যাতে নাগরিক সমাজের সঙ্গে মিলিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে ওঠে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল কুমিল্লা অঞ্চলের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার আবুল বাশার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণতা রক্ষার জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় উদ্যোগের সমন্বয়ই সফল নির্বাচন নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।
এই সংলাপের আর্থিক সহায়তা ইউকেএইড (UK Aid) তহবিলের আওতায় পরিচালিত বাংলাদেশ স্ট্রেনডেনিং পলিটিক্যাল একাউন্টিবিলিটি ফর সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট (বি‑স্পেস) প্রকল্প থেকে এসেছে। বি‑স্পেস প্রকল্পের লক্ষ্য হল রাজনৈতিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক ক্ষমতায়ন, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
সংলাপের মূল বার্তা ছিল, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য কেবল কথায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপে প্রকাশ পেতে হবে এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে অহিংসা, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সম্মানের পথে অগ্রসর হতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ত্রয়োদশ নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এমন সংলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন দল একে অপরের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা বুঝতে পারবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি কমবে। তাছাড়া, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নির্বাচনের বৈধতা ও স্বীকৃতি বৃদ্ধি পাবে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে এমএএফের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা সরকারী ও পার্টি স্তরের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণতা নিশ্চিত করার জন্য একটি মডেল তৈরি হয়েছে, যা অন্যান্য জেলা ও শহরে পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে।
সংলাপের পরবর্তী ধাপ হিসেবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্বাচনের পূর্বে নিয়মিত সমন্বয় সভা চালিয়ে যাওয়ার এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্য অর্জিত হবে।



