সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, দক্ষিণ ইয়েমেনের ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) শীর্ষ নেতা আইদারৌস আল‑জুবাইদি গত রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পলায়ন করেছেন। জোটের বিবৃতি অনুযায়ী, আল‑জুবাইদি পূর্বে এডেন থেকে সোমালিল্যান্ডের বারবারা বন্দরের দিকে যাত্রা করার পরিকল্পনা করছিলেন, তবে রাতের অন্ধকারে তিনি উড়োজাহাজে চড়ে আবুধাবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোগাদিশু, সোমালিতে পৌঁছে সেখান থেকে সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গমন করেন।
এই পালানোর ঘটনা ৮ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয়। জোটের মুখপাত্রের মতে, আল‑জুবাইদির অপ্রত্যাশিত পলায়ন দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধকে আরও তীব্র করতে পারে। এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে এবং ইতিমধ্যে হাদ্রামাউত ও আল‑মাহরা প্রদেশ, যা সৌদি সীমান্তের নিকটবর্তী, দখল করেছে।
আল‑জুবাইদির পলায়নের পর, জোটের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, এসটিসি শীর্ষের অন্যান্য সদস্যরা রিয়াদে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আল‑জুবাইদিকে এখন সৌদি দৃষ্টিকোণ থেকে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তার স্থানে সামরিক কর্মকর্তা নেতৃত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ফেডারেল কাঠামো গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পূর্বে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়, তবে বর্তমান আলোচনায় ফেডারেল ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতা করা হচ্ছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।
এসটিসি নেতৃত্বের এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন জোটের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জোটের বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, আল‑জুবাইদির পলায়ন দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয়কে জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষ করে সৌদি আরবের দক্ষিণ ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত।
দক্ষিণ ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ এখন ফেডারেল মডেলকে কেন্দ্র করে গঠিত হবে, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় এসটিসি শীর্ষের নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতি কীভাবে সমন্বিত হবে, তা পরবর্তী আলোচনার মূল বিষয় হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর পর আল‑জুবাইদির অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে জোটের সূত্রে জানা যায়, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে চায়, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ ইয়েমেনের শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক পারস্পরিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে, এই ঘটনা উভয় দেশের কূটনৈতিক কৌশলকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষত, দক্ষিণ ইয়েমেনের ফেডারেল কাঠামো গঠনের জন্য বহুপক্ষীয় আলোচনায় উভয় দেশের ভূমিকা কীভাবে সমন্বিত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়বে। দক্ষিণ ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ফেডারেল মডেলকে কেন্দ্র করে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি অঞ্চলটির দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



