বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবসায়ীদের সংগঠিত ধর্মঘট, বুধবার রাতে ঘোষিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবারের মধ্যাহ্নে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের মূল কারণ হল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এই সিদ্ধান্তটি এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান প্রকাশ করেছেন।
বিগত কয়েক দিন আগে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রয় বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সংগঠনটি কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিল। বুধবার রাতের ঘোষণায় বলা হয়েছিল যে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রাখা হবে। এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত গ্যাসের দাম, কর ও ট্যাক্সের হ্রাস, এবং সরবরাহ শৃঙ্খলায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি ছিল।
বিইআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা তাদের মূল চাহিদা পুনরায় উপস্থাপন করে। চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পাওয়া আশ্বাসে বলা হয়েছিল যে, গ্যাসের মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কর ও শুল্কের কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং সরবরাহের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। এই প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ীদের জন্য যথেষ্ট সন্তোষজনক হওয়ায় তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেলিম খান উল্লেখ করেন, “বিইআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছি। তাই আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করছি।” তিনি আরও জানান, সংগঠনটি এখন থেকে গ্যাসের সরবরাহ পুনরায় চালু করবে এবং বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে।
ধর্মঘটের প্রত্যাহার ফলে সিলিন্ডার বিক্রয় ও সরবরাহে তাত্ক্ষণিক স্বস্তি দেখা যাবে। রিটেইলাররা এখন গ্যাসের স্টক পুনরায় পূরণ করতে পারবে, ফলে গ্রাহকদের কাছে গ্যাসের ঘাটতি কমে যাবে। এছাড়া, গ্যাসের দামেও অস্থায়ী স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, কারণ বাজারে সরবরাহের ঘাটতি আর না থাকায় দাম বাড়ার ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ধর্মঘটের সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে উঁচু হতে পারত, যা গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক খাতের ওপর চাপ বাড়াতে পারত। এখন ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলায় স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম স্থিতিশীল রাখতে নীতি সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
বিইআরসি কর্তৃক দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে, গ্যাসের কর ও শুল্কের কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে, যা শিল্পের লাভজনকতা বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য দামের হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে, যদি প্রতিশ্রুতি পূরণে বিলম্ব হয়, তবে আবার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন ধর্মঘটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার গ্যাস সরবরাহের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে এনেছে এবং স্বল্পমেয়াদে দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহের কাঠামোকে স্থিতিশীল রাখতে নীতি স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে পুনরায় ধর্মঘটের সম্ভাবনা কমে এবং বাজারের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।



