আইন মন্ত্রণালয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি প্রদানকারী একটি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করেছে। এই খসড়া সংবিধানের ধারা ৪৬ এবং ১৯৭৩ সালের মুক্তিযোদ্ধা আইনের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতে, জুলাইযোদ্ধাদের দেশের ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তির জন্য জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে হয়েছিল। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে জানান যে, এই যোদ্ধাদের করা প্রতিরোধমূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ওপর কোনো আইনি দায় আরোপ না করা উচিত।
জুলাই ১৯৭২ সালের গণ-অভ্যুত্থান সময়, শাসক শীর্ষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তন করা হয়েছিল। সেই সময়ের যোদ্ধারা শেখ হাসিনার শাসনকালে গৃহীত নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে সরাসরি মুখোমুখি হয়েছিলেন, ফলে তাদের নিরাপত্তা ও স্বীকৃতির দাবি আজও তীব্র।
সংবিধানের ধারা ৪৬ নাগরিকদের নির্দোষতা বা দোষের প্রমাণ না থাকলে দায়মুক্তি নিশ্চিত করে, যা বিশেষ করে রাজনৈতিক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োগযোগ্য। তদুপরি, ১৯৭৩ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহীত বিশেষ আইনও সমজাতীয় রক্ষার কাঠামো প্রদান করে। এই দুইটি আইনি নথি একত্রে জুলাইযোদ্ধাদের জন্য নতুন এক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নথি ও পূর্বের আইনি উদাহরণ বিশ্লেষণ করে খসড়া তৈরি করেছে। খসড়া অনুযায়ী, যোদ্ধাদের ওপর কোনো আইনি মামলা চালু করা যাবে না, এবং তাদের পূর্বের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো শাস্তি আরোপ করা যাবে না। এই নথি পরবর্তী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে উপস্থাপিত হবে, যেখানে মন্ত্রিসভা সদস্যদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
আসিফ নজরুলের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, “জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব”। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা না দিলে ভবিষ্যতে অনুরূপ আন্দোলনের জন্য প্রেরণা হ্রাস পাবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে কিছু বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এই ধরণের ব্যাপক দায়মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন যে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষা প্রদান করা অন্য নাগরিকদের ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং আইনের সমতা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এধরনের উদ্বেগের ভিত্তিতে, খসড়া অনুমোদনের আগে বিস্তৃত আলোচনা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।
দায়মুক্তি অধ্যাদেশের অনুমোদন হলে, এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। এটি শুধু জুলাইযোদ্ধাদের স্বীকৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিরোধের সময় আইনি সুরক্ষার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে, সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংলাপের নতুন দিক উন্মোচিত হবে এবং দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়তে পারে।



