জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কুমিল্লা শহরের দেবিদ্বারে অনুষ্ঠিত ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী পদযাত্রার অংশে দোয়া‑মোনাজাত অনুষ্ঠানে ভোটদাতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি উল্লেখ করেন, “চাঁদাবাজরা কোনো উপায় না পেয়ে এখন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেছে। তারা ফোনে মানুষদের হুমকি‑ধামকি দিচ্ছে, কেন্দ্র দখল করবে, ভোট দিতে দেবে না। ভোটাধিকার কেড়ে নেবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও যোগ করেন, “শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া‑মোনাজাতের সময় তিনি চাঁদাবাজ ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তারা তাকে বাঁচতে দেয়নি, আমরা শহীদ ওসমান হাদির রেখে যাওয়া কাজ বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছি।” এভাবে তিনি শহীদ ওসমানের স্মরণে রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন।
বক্তা উল্লেখ করেন, “যারা গুন্ডা‑হুন্ডার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। গুন্ডা‑হুন্ডার ভয়ভীতি দেখানোর রাজনীতি এখন আর নেই। মানুষ এখন সচেতন। তারা কোন ঋণখেলাপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।” তিনি ভোটদাতাদের সচেতনতা ও স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পর যারা জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করবে, তাদের ভোট আর গ্রহণযোগ্য হবে না।
হাসনাত আব্দুল্লাহের মতে, “যারা বসে আছে, নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের অর্থ লুটপাট করবে, গোমতীর মাটি লুট করবে, এই জনগণ এবার তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।” তিনি ভোটদাতাদেরকে আহ্বান জানান যে, নির্বাচনের পর যদি কোনো প্রার্থী জনগণের স্বার্থে কাজ না করে, তবে তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা হবে।
বক্তা শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করেন, “আপনারা যদি সংস্কার চান, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ চান, নিজের ভোট নিজে দিতে চান, ভারতীয় গুন্ডামি বন্ধ করতে চান, তাহলে গণভোটে আপনারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। আপনার হ্যাঁ ভোটেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ।” এভাবে তিনি ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুষ্ঠানটি ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতার পক্ষে একতাবদ্ধ হয়।
দেবিদ্বারে অনুষ্ঠিত দোয়া‑মোনাজাতের সময় উপস্থিত জনগণ হাসনাত আব্দুল্লাহের বক্তব্যে মনোযোগী ছিলেন এবং বেশ কয়েকজন ভোটদাতা তার সতর্কবার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। উপস্থিতিরা উল্লেখ করেন, ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য অগ্রাধিকার।
হাসনাত আব্দুল্লাহের মন্তব্যের পটভূমিতে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হুমকি ও গৃহস্থালি হিংসা বাড়ার খবর রয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভোটদাতাদের সচেতনতা ও স্ব-সুরক্ষার আহ্বান জানান।
এনসিপি দলীয় কর্মকর্তারা পরে জানিয়েছেন, চাঁদাবাজদের হুমকি মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহের এই ধরনের রেটোরিক্যাল বক্তব্য ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে ভোটদাতাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। তবে কোনো পক্ষের পক্ষপাতিত্ব না রেখে, ভোটের ফলাফল স্বচ্ছভাবে নির্ধারিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দেবিদ্বারের এই দোয়া‑মোনাজাত ও পদযাত্রা শেষ হওয়ার পর, স্থানীয় প্রশাসন ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। ভোটের দিন নাগরিকদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।



