ঘানার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কেন ওফোরি-আত্তা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক নজর কাড়েছে। ৬৬ বছর বয়সী ওফোরি-আত্তা গত বছরের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে প্রোস্টেট ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা গ্রহণ করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে, এবং বর্তমানে তাকে ভার্জিনিয়া রাজ্যের একটি ফেডারেল বন্দি কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আইসিইর অনলাইন রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনো আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যে জেলখানা ও সম্ভাব্য বাদ দেওয়ার আবেদন অন্তর্ভুক্ত।
ওফোরি-আত্তা ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দোর সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মেয়াদকালে তিনি বিতর্কিত কর সংস্কার চালু করেন, যা দেশের কর সংগ্রহের কাঠামো পরিবর্তন করে এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। তদুপরি, তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনার নেতৃত্ব দেন, যা ঘানার অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দ্রুতই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওফোরি-আত্তার বিরুদ্ধে ঘানায় দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যার ফলে তিনি দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। অভিযোগের মধ্যে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি অন্তর্ভুক্ত, যদিও এখনো কোনো আদালতে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি। তার পালানোর পর ঘানার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগী দপ্তর তার ওপর আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান চালু করে এবং তার গ্রেফতার ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই গ্রেফতারটি ইমিগ্রেশন লঙ্ঘনের ভিত্তিতে করেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রকাশ্যে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ উল্লেখ করেনি। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বর্তমানে ইমিগ্রেশন আদালতে শুনানি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে তার ভিসা অবস্থা, চিকিৎসা অবস্থা এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। আইসিই জানিয়েছে, ওফোরি-আত্তার চিকিৎসা অবস্থা বিবেচনা করে তাকে নির্দিষ্ট শর্তে জেলখানায় রাখা হয়েছে, তবে তার আইনি অধিকার রক্ষা করা হবে।
ঘানার সরকার গ্রেফতারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে এবং দাবি করেছে যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে, ঘানার বিচার বিভাগী দপ্তর জানিয়েছে যে ওফোরি-আত্তার বিরুদ্ধে গৃহীত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ঘানায় প্রত্যর্পণ করা হলে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা চালু হবে।
আইসিই ও ঘানার আইনগত প্রতিনিধিরা উভয়ই উল্লেখ করেছেন যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অপরাধমূলক রায় দেওয়া হয়নি, তাই তার আইনি অধিকার রক্ষা করা হবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ওফোরি-আত্তা বর্তমানে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর ঘানার আর্থিক নীতি ও আন্তর্জাতিক ঋণ আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওফোরি-আত্তা যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে দেশের আর্থিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাই তার গ্রেফতার ঘানার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ঋণ পুনর্গঠনের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা বিশ্লেষকরা পর্যবেক্ষণ করছেন।
অধিকন্তু, ঘানার অভ্যন্তরে দুর্নীতি মোকাবেলায় সরকারের উদ্যোগ বাড়ানোর দাবি বাড়ছে। গ্রেফতারকে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রেরণা দেবে।
পরবর্তী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে ওফোরি-আত্তার শোনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে তার ভিসা অবস্থা, চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তা এবং প্রত্যর্পণ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে, ঘানার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে গৃহীত অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই সব প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উভয় দেশের আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নজর রাখছে। গ্রেফতার ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো ঘানার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে এবং দেশের দুর্নীতি বিরোধী নীতি শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে।



