দিনাজপুরের সুনদোরা সীমান্ত পোস্টের কাছে পিলার ৩১৯-এ গতকাল বিকেল ২:৩০ টায় বাংলাদেশ সীমান্ত গার্ড (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার স্তরের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুই ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে উভয় দেশের সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সমন্বয়ের পথ নির্ধারণ করা হয়।
বিজিবি দিক থেকে ৪২ নম্বর দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেটারাল কলোনেল আব্দুল্লাহ আল মোইন হাসান এবং ২৯ নম্বর ফুলবাড়ি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেটারাল কলোনেল এএম জাবের বিন জাব্বার এই দুইজন কর্মকর্তাই বাংলাদেশী দলে অংশ নেন। ভারতের দিক থেকে ৯১ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট বিপিন কুমার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের মূল দাবি ছিল, সীমান্ত অতিক্রমের সময় যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে প্রবেশ করে, তবে বিএসএফকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার সঙ্গে আচরণ করতে হবে। এছাড়া, কোনো পরিস্থিতিতেই প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
বৈঠকে দু’পাশের প্রতিনিধিরা ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের পাচার, শূন্য রেখা বরাবর গবাদি পশু চারণ এবং উভয় দেশের নাগরিকদের অবৈধ সীমান্ত পারাপারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করেন। এসব বিষয়ের তথ্য বিনিময় করে ভবিষ্যতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, সীমান্ত সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে, যাতে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে এবং অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
বৈঠকের সমাপ্তি বিকেল ৫ টায় হয় এবং উভয় পক্ষই নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং সীমান্ত অপরাধ কমাতে আশাবাদ প্রকাশ করে। এই ধরনের সমন্বয়মূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্য স্পষ্ট।
এই সময়ে, ভারতকে জ্বালানি সংকটের কারণে দ্বিমুখী চাপের মুখে দেখা যাচ্ছে; দেশীয় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা উভয়ই নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সমন্বয় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “দুই দেশের সীমান্ত গার্ডের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়ক। জ্বালানি সংকটের মতো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের সময়ে এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়।”
ভবিষ্যতে উভয় দেশই নিয়মিত ব্যাটালিয়ন কমান্ডার স্তরের বৈঠক চালিয়ে সীমান্তে ঘটমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান ও নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করার কথা প্রকাশ করেছে। এই ধারাবাহিকতা সীমান্তে অবৈধ কার্যকলাপ কমিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করবে।



