মাগুরা সদর উপজেলার ইচাখাদা গ্রামে গবাদি পশু চুরির সন্দেহে এক ব্যক্তি মারাত্মক আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তির নাম মোঃ আকিদুল হোসেন, বয়স ৩৫, যিনি প্যাকাকাঞ্চনপুর পূর্ব পারা এলাকার বাসিন্দা। ঘটনাটি গতকাল প্রাতঃকালীন প্রায় পাঁচটায় ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, আকিদুল গবাদি পশু ও ছাগল চুরির চেষ্টা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়। সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে গ্রামবাসীরা গ্রেপ্তার করে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। আক্রমণের পর স্থানীয়দের কাছ থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোনে জানানো হয়, ফলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের হস্তক্ষেপে আকিদুলকে রক্ষা করা হয় এবং প্রায় আটটায় তাকে মাগুরা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুবরণ নিশ্চিত করেন।
আকিদুলের বিরুদ্ধে পূর্বে গবাদি পশু চুরির একটি মামলা দায়ের করা ছিল। তবে পুলিশ এখনো ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি গবাদি পশু চুরির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে গ্রামাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে। তেঙাখালী এলাকায় গবাদি পশু চুরি করে পালিয়ে যাওয়া দুই-তিনজনকে গ্রামবাসীরা তাড়া করে, এবং তাদের মধ্যে একজনকে ইচাখাদা পশ্চিম পারায় ধরা পড়ে।
ধরা পড়া ব্যক্তির ওপর গ্রামবাসীরা গোষ্ঠীভুক্ত হিংসা চালায়, যা শেষ পর্যন্ত আকিদুলের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। তবে আকিদুলের স্ত্রী আদহিফা দাবি করেন, তার স্বামী গবাদি পশু চুরিতে কোনো জড়িত ছিলেন না এবং তিনি ঢাকা থেকে রাতের বেলা ইচাখাদা বাজারে গিয়েছিলেন। তিনি এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেন।
আকিদুলের পুত্র সাইমুনও একই রকম মত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তার বাবা দীর্ঘ সময় সাইপ্রাসে বসবাস করেছেন এবং পরে ঢাকা শহরে কাঁচামাল ব্যবসা চালাতেন। গবাদি পশু চুরির অভিযোগকে তিনি মিথ্যা বলে খণ্ডন করেন।
অতিরিক্ত সুপারইন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (ক্রাইম) মিরাজুল ইসলাম জানান, আকিদুলের মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়নি। মৃতদেহের পোস্ট-মর্টেম পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, একই সময়ে গবাদি পশু চুরির সঙ্গে যুক্ত দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা আকিদুলের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মামলার অগ্রগতি এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আপডেট প্রদান করা হবে।



