19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাজ্যে বিক্ষোভের অধিকার কঠোর সীমাবদ্ধ, মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক

যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভের অধিকার কঠোর সীমাবদ্ধ, মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর নিয়ন্ত্রণ তীব্রতর হয়েছে। সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, আইনগত কাঠামো পরিবর্তনের ফলে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার, অভিযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

HRW “Silencing the Streets: The Right to Protest under Attack in the UK” শীর্ষক রিপোর্টে এই প্রবণতার বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছে। রিপোর্ট প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, সুইডিশ পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ লন্ডনে একটি প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সময় আটক হন এবং পরে মুক্তি পান। ঐ প্রতিবাদটি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ।

HRW-এর গবেষক লিডিয়া গ্যাল উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাজ্য এখন এমন নীতি গ্রহণ করছে যা অধিকতর কঠোরভাবে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করে এবং গণতান্ত্রিক নিরাপত্তা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ধারা দেশের ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংস্থার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লেবার সরকার বিক্ষোভের অধিকারকে আরও দমন করার পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং এই দিকটি উদ্বেগজনক। গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ওপর আটক, অভিযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী শাস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনকি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সভায় অংশগ্রহণের জন্যও শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।

পূর্বের কনজারভেটিভ সরকার ২০২৩ সালে বিক্ষোভ সংক্রান্ত আইন ব্যাপকভাবে সংশোধন করে, যা এখন লেবার সরকারেও রদবদল হয়নি। HRW প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সরকারকে সমালোচনা করেছে, কারণ নতুন আইন এখনও কার্যকর রয়েছে।

HRW যুক্তরাজ্যের পরিচালক ইয়াসমিন আহমেদ উল্লেখ করেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা দৃঢ় করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে স্টারমার নিজেই মানবাধিকার আইনজীবী হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপে তিনি বিস্মিত। তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের আইন যেকোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে।

আহমেদ আরও দাবি করেন, বর্তমান সীমাবদ্ধতা বাতিল করা এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা জরুরি। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান, বিক্ষোভের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে অন্তত ২,৩০০ জনকে গ্রুপের সমর্থনে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সংখ্যা বিক্ষোভের অধিকার সীমাবদ্ধের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

HRW-এর গবেষণা দেখায়, বিক্ষোভকারীদের ওপর আরোপিত শাস্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হ্রাসই নয়, বরং নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, বিক্ষোভের অধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান কঠোর বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত এই উদ্বেগের প্রতি কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ভবিষ্যতে আইন সংশোধন বা নীতিমালা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।

HRW-এর এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, এবং যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় বিক্ষোভের অধিকারকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সূচনা হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments