তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সর্বশেষ শ্বেতপত্র বৃহস্পতিবার সরকারি ওয়েবসাইট www.ictd.gov.bd-তে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিভাগে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মী ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারকে নথিটি পর্যালোচনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্বেতপত্রের প্রকাশের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত ও গবেষণার ফলাফল রয়েছে, যা আইসিটি খাতে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সঞ্চিত অনিয়ম ও অপব্যবস্থাপনা উন্মোচনের উদ্দেশ্যে গৃহীত টাস্কফোর্সের কাজের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।
প্রেস রিলিজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত ঘোষণায় শ্বেতপত্রের মূল বিষয়বস্তু ও প্রস্তুতির পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শ্বেতপত্রটি টাস্কফোর্সের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত রূপে প্রস্তুত করে বিভাগে দাখিল করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে তা অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
টাস্কফোর্সের গঠন ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে করা হয়েছিল। এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে আইসিটি বিভাগের অধীনে সম্পাদিত সকল চুক্তি, প্রকল্প, ডিপিপি, অডিট রিপোর্ট এবং তদন্ত প্রতিবেদন একত্রে পর্যালোচনা করে অনিয়ম ও অপব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করা।
টাস্কফোর্সের সদস্যগণ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, স্বতন্ত্র থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং আইসিটি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ছিল, যার ফলে বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয়। টাস্কফোর্সের কাজের পরিধি বিস্তৃত; তারা চুক্তির শর্তাবলী, প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, আর্থিক ডিপিপি, অডিটের ফলাফল এবং পূর্বে গৃহীত তদন্তের রেকর্ডগুলো একত্রে বিশ্লেষণ করে সামগ্রিক চিত্র তৈরি করেছে।
অনেক মাসের তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার এবং নথি বিশ্লেষণের পর টাস্কফোর্স শ্বেতপত্রের খসড়া প্রস্তুত করে, তা পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য একাধিক স্তরে আলোচনা চালায়। এই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত মন্তব্য ও সুপারিশগুলো চূড়ান্ত নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে শ্বেতপত্রটি বাস্তবিক সমস্যার সমাধান ও নীতি নির্ধারণে কার্যকর হয়।
শ্বেতপত্রে প্রধানত তিনটি স্তরে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে: প্রথমে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সঞ্চিত অনিয়মের তালিকা, দ্বিতীয়ত সেসব অনিয়মের মূল কারণ ও প্রভাব, এবং তৃতীয়ত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ নীতি প্রস্তাবনা। প্রতিটি অংশে নির্দিষ্ট উদাহরণ, পরিসংখ্যান এবং প্রাসঙ্গিক নথি উল্লেখ করা হয়েছে, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করে।
সরকার শ্বেতপত্রকে আইসিটি বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করছে। শ্বেতপত্রে প্রস্তাবিত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোতে বিভাগীয় কাঠামো পুনর্গঠন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, তদারকি প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ এবং ডিজিটাল সেবার মানোন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শ্বেতপত্রের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও বিধিমালা সংশোধনের জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি শ্বেতপত্রে উল্লিখিত সুপারিশের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি রিপোর্ট করবে। ফলে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।
আইসিটি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেতে শ্বেতপত্রের ডিজিটাল সংস্করণ ডাউনলোডের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে গবেষক, শিল্পপতি এবং সাধারণ নাগরিকও সহজে নথিটি ব্যবহার করতে পারে। শ্বেতপত্রের তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে আইসিটি প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ এবং তদারকি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
অধিকন্তু, শ্বেতপত্রে উল্লেখিত সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার আগামী কয়েক বছরে আইসিটি সেক্টরের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে। এই রোডম্যাপের লক্ষ্য হবে ডিজিটাল অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন, সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ এবং নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করা।
সারসংক্ষেপে, আইসিটি বিভাগের শ্বেতপত্রের প্রকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সঞ্চিত অনিয়মের সমাধান এবং ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে ভিত্তি সরবরাহ করবে। শ্বেতপত্রের বাস্তবায়ন ও তদারকি প্রক্রিয়া সফল হলে, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবা মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে।



