সৌম্য সরকার, যিনি ২৫০‑এর বেশি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন, তার টেস্ট ও ওডিআই সেঞ্চুরি থাকা সত্ত্বেও টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্নের মুখে। গত মাসে জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) তিনি ১৪ ইনিংসে ৬৩৩ রান সংগ্রহ করে গড় ৪৫.২১ এবং স্ট্রাইক রেট ৭৬.৪৪ অর্জন করেন, যা দীর্ঘ ফরম্যাটে তার ধারাবাহিকতা দেখায়। তবে একই সময়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তে তিনি মাত্র তিনটি ম্যাচই খেলতে পেরেছেন, যার মধ্যে নোয়াখালীর হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে ৬ ও ৫ রান করে মোট ১১ রান যোগ করতে সক্ষম হন।
সৌম্যের ব্যাটিং স্টাইলটি টি‑টোয়েন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে বেশি মানানসই বলে সাধারণ ধারণা, তবে বাস্তবে তার পারফরম্যান্স দীর্ঘ ফরম্যাটে বেশি উজ্জ্বল। বিপিএলে সীমিত সুযোগের ফলে তার স্ট্রাইক রেট কমে গিয়েছে, যা তাকে টি‑টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞদের তালিকায় নিচে নামিয়ে দিয়েছে।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেখা যায়, ২৫০‑এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন এমন কয়েকজন খেলোয়াড়ের স্ট্রাইক রেট সৌম্যের চেয়ে ভালো। পাকিস্তানের পেসার সোহেল তানভীরের স্ট্রাইক রেট ১৬.৭৮ এবং ইংল্যান্ডের স্পিন অলরাউন্ডার লিয়াম ডসনের স্ট্রাইক রেট ১৭.৭৬, উভয়েরই ব্যাটিং গড় সৌম্যের কাছাকাছি। তবু তানভীর ও ডসনের গড়ই সৌম্যের তুলনায় সামান্য বেশি, যা তাদেরকে স্ট্রাইক রেটের পাশাপাশি গড়ের দিক থেকেও এগিয়ে রাখে।
সৌম্যের স্ট্রাইক রেটের সঙ্গে তুলনা করা যায় বাংলাদেশের বর্তমান কোচ ও বিশ্বকাপ জয়ী গৌতম গম্ভীর, তামিম ইকবাল, এবং ভারতের শীর্ষ অলরাউন্ডার জে.পি. ডুমিনির সঙ্গে। গম্ভীর ২৫১ ম্যাচে গড় ২৮.৯৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১২০.৫৮ বজায় রেখেছেন, তামিম ২৮১ ম্যাচে গড় ২৯.৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১২১.১৬ অর্জন করেছেন। উভয়েরই গড়ই সৌম্যের চেয়ে বেশি, যদিও স্ট্রাইক রেটের পার্থক্য তেমন বড় নয়।
সৌম্যের টি‑টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের এই বৈপরীত্যের পেছনে সম্ভবত সুযোগের অভাব এবং ভূমিকা পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। তিনি মূলত ওপেনার হিসেবে খেললেও বিপিএলে তার ওপেনিং শটের সংখ্যা সীমিত, ফলে তার আক্রমণাত্মক শৈলী পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। অন্যদিকে, এনসিএলে তিনি মাঝারি গতি ও শটের বৈচিত্র্য ব্যবহার করে ধারাবাহিক রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা তার গড়কে উঁচুতে নিয়ে গেছে।
সৌম্যের ব্যাটিং পদ্ধতি টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য উপযুক্ত বলে স্বীকৃত, তবে বাস্তবে তার স্ট্রাইক রেট দীর্ঘ ফরম্যাটে বেশি কার্যকর। তার টেস্ট ও ওডিআই সেঞ্চুরি এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে তিনি বড় স্কোর গড়ে তুলতে সক্ষম, তবে দ্রুত রেটের প্রয়োজনীয়তা টি‑টোয়েন্টিতে এখনও পূরণ হয়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ভবিষ্যতে যদি সৌম্যকে টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তার স্ট্রাইক রেট উন্নত হতে পারে। তবে বর্তমান পরিসংখ্যান দেখায় যে, ২৫০‑এর বেশি ম্যাচের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তার টি‑টোয়েন্টি রেট এখনও উন্নতির প্রয়োজন।
সৌম্য সরকারের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে এনসিএল ও বিপিএল উভয়েরই শিডিউল শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। তার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবং স্ট্রাইক রেটের উন্নতি কিভাবে হবে, তা ক্রিকেট ভক্তদের নজরে থাকবে।



