ঢাকার কারওয়ান বাজারের একটি গলিতে গত রাতের অন্ধকারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির গুলি হানা শেষ হয়ে গেছেন। অপরিচিত গুলিবিদ্ধদের হাতে গুলি করে তিনি নিহত হয়েছেন, এবং ঘটনাস্থলটি দ্রুত পুলিশ তদন্তে নিয়েছে। মুসাব্বির ছিলেন ঢাকা সিটি নর্থ স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, এবং তার মৃত্যু দেশের নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
মুসাব্বিরের গুলি হানা ঘটেছে যখন তিনি গলির মোড়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন; গুলি শোনার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা কল করে, তবে শিকারের প্রাণ দ্রুত হারিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি, এবং গুলি চালানো ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে পুলিশ গতি বাড়িয়ে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গুলি চালানো গুলিবিদ্ধদের কোনো পরিচিতি প্রকাশ করা হয়নি, ফলে তদন্তের দিকটি এখনও অমীমাংসিত।
বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য সালাহুদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধের পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে, ঘটনাটিকে “বিচ্ছিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি কিছু ফ্যাসিস্ট শক্তির ষড়যন্ত্র হতে পারে, যা নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চায়। তবে তাদের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।” এই মন্তব্যটি গুলিবিদ্ধের পরিবার ও সমর্থকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া হয়েছিল, যখন তিনি গুলশান অফিসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
সালাহুদ্দিনের মতে, দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণ এই দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ, এবং তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধা দিতে চাওয়া কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ শক্তির মুখোমুখি হবে না।” তার এই বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক দলকে একত্রে কাজ করতে হবে, এটাই সালাহুদ্দিনের মূল দাবি। তিনি বলেন, “সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক দলের আন্তরিকতা থাকলে আমরা নির্বাচনের পথে মসৃণভাবে অগ্রসর হতে পারব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদিও বিভিন্ন দল বিভিন্ন দাবি ও মতামত প্রকাশ করে, শেষ পর্যন্ত সবাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে চায়।”
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হবে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সমাধান করবে, এ কথাও তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এখন পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে ইচ্ছুক এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি দলের কিছু সদস্য পার্টির নির্দেশনা না মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন; এ বিষয়ে সালাহুদ্দিন জানান, “আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি এবং বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য সংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছি।” তিনি যোগ করেন, “বড় দল হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের ওপর দায়িত্ব আরোপিত, এবং আমরা সকল সদস্যকে একত্রে কাজ করতে উৎসাহিত করছি।”
সালাহুদ্দিনের মন্তব্যে তিনি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতা রোধে সংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আমাদের একত্রে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়, এবং আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব যাতে রাজনৈতিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু থাকে।”
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, সকল রাজনৈতিক শক্তি ও নাগরিক সমাজকে একসাথে কাজ করে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। মুসাব্বিরের গুলিবিদ্ধ মৃত্যু যদিও দুঃখজনক, তবু এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধা দিতে পারে না; বরং সকলের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে নির্বাচনের পথে কোনো অনধিকারিক হস্তক্ষেপ না ঘটে। ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন ও সরকার যে কোনো অভিযোগ দ্রুত সমাধান করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।



