ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রোডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশন (IMPPA) সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ধুরন্ধর ছবির উপর সংযুক্ত গালফ দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার জন্য হস্তক্ষেপের আবেদন জানায়। এই চলচ্চিত্রটি রণবীর সিংের মুখ্য ভূমিকায়, এবং অ্যাডিত্য ধারের পরিচালনায় তৈরি, যা কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (CBFC) থেকে অনুমোদন পেয়ে দেশীয় বাজারে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান ও সৌদি আরবের ছয়টি গালফ রাষ্ট্রে ধুরন্ধর ছবির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। IMPPA-র সভাপতি অভয় সিনহা এই নিষেধাজ্ঞাকে “একপক্ষীয় এবং অযৌক্তিক” বলে বর্ণনা করে, এবং এটিকে সদস্যদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
IMPPA-র চিঠিতে গালফ দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে এই দেশগুলো নিয়মিত বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় করে আসছে। তাই, চলচ্চিত্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কেবল শিল্পের স্বায়ত্তশাসন নয়, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সাথেও বিরোধ সৃষ্টি করছে।
সংঘের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট গালফ দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া, স্বাধীনতা ও প্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত বলে দাবি করা হয়েছে।
IMPPA এই চিঠির একটি কপি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের কাছে পাঠিয়েছে। উভয় মন্ত্রীই শিল্প ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, এবং এই বিষয়টি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মাধ্যমে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
ধুরন্ধর ছবিটি প্রকাশের পর থেকে কিছু সমালোচক চলচ্চিত্রের ভূ-রাজনৈতিক থিমকে পক্ষপাতদুষ্ট বা প্রচারমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে শিল্প জগতের অনেক সদস্য এই সমালোচনাকে অস্বীকার করে চলচ্চিত্রের গল্প বলার দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত দিককে প্রশংসা করেছেন। এই বিতর্কের মাঝেও গালফ দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা শিল্পের জন্য আর্থিক ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সীমিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বিনোদন শিল্পের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, চলচ্চিত্রের সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষা না করা হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা হ্রাস পেতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করে গালফ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, যাতে শিল্পী ও প্রযোজকরা তাদের কাজের ফলাফল সুষ্ঠুভাবে উপভোগ করতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে, IMPPA এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলো একত্রে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে, যাতে ধুরন্ধর ছবির মতো উচ্চ মানের ভারতীয় চলচ্চিত্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমান সুযোগ প্রদান করা যায় এবং প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষিত থাকে।



