গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সম্ভাবনা রাখে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই সফর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক প্রচার অন্তর্ভুক্ত নয়।
তারেক রহমানের সফর ১১ জানুয়ারি রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সফরের সময় তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শহীদদের কবর জিয়ারত, পুষ্পমালা অর্পণ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মানবিক সহায়তা প্রদান করবেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো, যা জাতির প্রত্যাশা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন, শহীদদের কবর জিয়ারত করা এবং তাদের আত্মত্যাগকে সম্মানিত করা দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার দায়িত্বের অংশ। তিনি যোগ করেন, এই ধরনের ভ্রমণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়, কারণ এটি জাতীয় ঐতিহ্য ও স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কাজ।
বিএনপি দলের অভ্যন্তরে কিছু সদস্যের বিদ্রোহী অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বা জোটগত সমঝোতার বাইরে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ক্ষোভ বা হতাশার কারণে বিদ্রোহী অবস্থানে গিয়ে থাকা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে প্রত্যাশা ও চাহিদা থাকে। আসন সমঝোতা, জোটগত হিসাব-নিকাশ এবং বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন, যার ফলে কিছু সদস্যের মধ্যে মনঃকষ্ট ও বিরক্তি দেখা দিয়েছে। এই মনোভাবের ফলে কিছু সদস্য বিদ্রোহী বা ক্ষুব্ধ অবস্থানে গেছেন।
দলটি এই সমস্যাগুলোর সমাধানে বিভিন্ন স্তরে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে বিদ্রোহী সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, আবার অন্য কিছু ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হল দলের ঐক্য বজায় রাখা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটতে দেওয়া।
তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফরকে দলীয় শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে, দলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সফরের সময়সূচি ও কার্যক্রমের ওপর নজর রাখবেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো এবং মানবিক কাজের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা, যা কোনো রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে গণ্য হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মানিত করা এবং তাদের কবর জিয়ারত করা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তিনি অনুরোধ করেন, সকল রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিরা এই সফরের পবিত্রতা বজায় রাখতে এবং তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করতে।
উল্লেখযোগ্য যে, তারেক রহমানের এই সফর বহু বছর আগে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন তিনি এই সুযোগটি ব্যবহার করে শহীদদের স্মরণে সম্মানসূচক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এই সফরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা দলের সুনাম ও নির্বাচনী নীতির প্রতি প্রশ্ন তুলবে, তাই দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএনপি দলীয় কাঠামোর মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টা নির্বাচনী সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই ধরনের ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী প্রচার ও কৌশলগত পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
সফরের শেষ দিনে, ১৪ জানুয়ারি, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঢাকা শহরে হবে বলে জানা যায়। সফরের সময় তিনি যে সকল শহীদ কবর জিয়ারত করবেন এবং পুষ্পমালা অর্পণ করবেন, তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে একটি ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে বিবেচিত হবে। দলীয় কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই সফর দেশের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সম্মানিত করবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়মের সুযোগ না দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখবে।



