27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

গত বুধবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির আদালত কক্ষের প্রবেশে সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদালত কর্মীরা ঘন্টা জুড়ে দরজায় উপস্থিত থেকে পরিচয়পত্র যাচাই করে, কেবল আইনজীবীদের অনুমতি দিয়ে কক্ষের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন।

এই নিষেধাজ্ঞা প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশে নেওয়া হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মো. মুহাম্মদ হুসেইন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো নীতি বা প্রোটোকল প্রকাশিত হয়নি, তবে শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হবে।

হুসেইন আরও জানান, নোটিশ প্রকাশের পরেই এই নিষেধাজ্ঞার কারণ স্পষ্ট হবে। তবে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি যে এই সীমাবদ্ধতা শুধুমাত্র আপিল বিভাগে প্রযোজ্য নাকি পুরো সুপ্রিম কোর্টে একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবিধানের প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাতন্ত্র্যের দিক থেকে এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর, মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার অধীন এবং কোনো অতিরিক্ত বিবরণ প্রদান করা সম্ভব নয়।

মিডিয়া সংস্থাগুলি এই সিদ্ধান্তকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। তারা উল্লেখ করে, আদালতের কার্যক্রমের সরাসরি পর্যবেক্ষণ নাগরিকের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় এবং এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জনসাধারণের আস্থা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, বেশ কিছু আইনজীবী এই পদক্ষেপকে আদালতের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা যুক্তি দেন, আদালতের ভিতরে অতিরিক্ত জনসাধারণের উপস্থিতি কখনও কখনও বিচারের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং তাই সীমিত প্রবেশাধিকার বজায় রাখা যুক্তিযুক্ত।

সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের প্রথা অনুযায়ী, বেশিরভাগ উচ্চ আদালতের শুনানিতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি অনুমোদিত ছিল। তাই এই হঠাৎ পরিবর্তনকে অনেকে অস্বাভাবিক বলে বিবেচনা করছেন এবং পূর্বের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনতা তুলে ধরছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারে। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে, যা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বহন করে না।

পরবর্তী পর্যায়ে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আনুষ্ঠানিক নোটিশের অপেক্ষা করবে এবং নোটিশ প্রকাশের পর যদি কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়ে তবে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে। সাংবাদিক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে আদালতে রায়ের জন্য আবেদন করার কথা প্রকাশ করেছে।

এই পরিস্থিতি দেশের বিচারিক স্বচ্ছতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নোটিশের বিষয়বস্তু ও পরবর্তী পদক্ষেপগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সারসংক্ষেপে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, আনুষ্ঠানিক নোটিশের অপেক্ষা এবং সংবিধানিক অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের আইনি ও রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments