ইয়েমেনের সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনে কাজ করা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (স্টিসি) এর প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদি, দেশের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) কর্তৃক রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন। পিএলসি বুধবার জারি করা একটি ডিক্রিতে জুবাইদির সদস্যপদ বাতিল করে তাকে প্রসিকিউটর জেনারেলের তত্ত্বাবধানে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডিক্রিটি পিএলসি চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি স্বাক্ষর করে প্রকাশ করা হয়। এতে জুবাইদির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ক্ষতি করা, অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন, বেসামরিক নাগরিকের ওপর নির্যাতন এবং সামরিক স্থাপনার নাশকতা সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তি করে পিএলসি তার সদস্যপদ বাতিলের পাশাপাশি তদন্তের আদেশ দেয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণের কথা ছিল জুবাইদির, তবে শেষ মুহূর্তে তিনি বিমান থেকে নামেননি এবং অজানা কোনো স্থানে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যান। সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, জুবাইদি বৈঠক থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন, যদিও তার গমনপথ স্পষ্ট করা হয়নি। এই ঘটনার পর, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এডেনে অবস্থিত স্টিসি যোদ্ধাদের ওপর বিমান হামলা চালায়, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্টিসি পক্ষ থেকে জুবাইদির গমনভঙ্গের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গোষ্ঠী জানিয়েছে যে তাদের নেতা বর্তমানে এডেনে অবস্থান করছেন এবং স্বাভাবিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করছেন। স্টিসি আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, জুবাইদির কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রমাণ নেই এবং তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।
পিএলসির এই পদক্ষেপের ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আসতে পারে। স্টিসি ও পিএলসির মধ্যে সম্পর্কের অবনতির ফলে দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে, পিএলসি যে তদন্ত শুরু করেছে, তা যদি জুবাইদির বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে, যা দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পদক্ষেপগুলোও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্টিসি যোদ্ধাদের ওপর বিমান হামলা এবং জুবাইদির অচেনা গন্তব্যে অদৃশ্য হওয়া, দুটোই অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে পিএলসি ও স্টিসির মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরু করা সম্ভব কি, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে উভয় পক্ষেরই রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। যদি পিএলসি জুবাইদির বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক তদন্তে সফল হয়, তবে তা ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। অন্যদিকে, স্টিসি যদি তার নেতৃত্বের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজ করে, তবে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বৈধতা কমে যেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পিএলসির জুবাইদি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এবং স্টিসি ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপগুলো ইয়েমেনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা রাখে। উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।



