20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাকুয়াকাটার জেলে ধরা ১.৫ কেজি ইলিশ ৫,৭০০ টাকায় বিক্রি, বাজারমূল্য ১.৫২ লাখ

কুয়াকাটার জেলে ধরা ১.৫ কেজি ইলিশ ৫,৭০০ টাকায় বিক্রি, বাজারমূল্য ১.৫২ লাখ

৭ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে কুয়াকাটার সমুদ্রের কাছে জেলে কাজ করা মাসুদ মাঝি ১ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি বিশাল ইলিশ ধরেন। স্থানীয় বাজারে তিনি এই মাছটি মাত্র পাঁচ হাজার সাতশো টাকায় বিক্রি করেন, যদিও বর্তমান বাজারমূল্য এক লাখ পঞ্চানব্বই হাজার টাকার কাছাকাছি।

মাসুদ মাঝি একই সময়ে অন্যান্য মাছও তোলেন, তবে এই ইলিশটি তার আকারে আলাদা হয়ে উঠে। মাছের ওজন ও বিশালতা স্থানীয় ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ফলে দ্রুত বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন যে শীতকালে এ ধরনের বড় সাইজের ইলিশ ধরা খুবই বিরল, যা বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করে। এই মৌসুমে বড় ইলিশের অভাব ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

মাসুদ মাঝি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বড় ইলিশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, ফলে এই ধরা মাছটি আকারে অনন্য এবং উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এটিকে তার ব্যবসার জন্য একটি সোনার সুযোগ হিসেবে দেখেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. হাসান, যিনি জেলে ধরা মাছ নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেন, জানান যে উপকূলীয় জেলে বড় ইলিশের ধরা এখন খুবই কম। তিনি এই ইলিশটি নিলামের মাধ্যমে অর্জন করে, স্বল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে লাভের মার্জিন বজায় থাকে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বড় ইলিশের ধরা জেলেদের জন্য ইতিবাচক সংকেত। গভীর সমুদ্রের জেলেদের পাশাপাশি উপকূলীয় জেলেদেরও এখন বড় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, যা সামগ্রিক মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি ভবিষ্যতে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বিক্রয়মূল্য (৫,৭০০ টাকা) এবং অনুমানিত বাজারমূল্য (১,৫২,০০০ টাকা) এর মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যটি মূলত বিক্রেতার তাত্ক্ষণিক নগদ প্রয়োজন এবং উচ্চমূল্যের ইলিশের সীমিত ক্রেতা গোষ্ঠীর কারণে ঘটেছে।

শীতকালে বড় ইলিশের সরবরাহের ঘাটতি ভবিষ্যতে এই প্রজাতির দামকে উর্ধ্বমুখী করতে পারে, যা বড় সাইজের মাছ ধরতে সক্ষম জেলেদের জন্য লাভজনক হবে। তবে সরবরাহের ঘাটতি ক্রেতাদের জন্য মূল্যবৃদ্ধি ঘটাতে পারে, ফলে বাজারে উচ্চমূল্যের ইলিশের চাহিদা বাড়বে।

অন্যদিকে, ট্রেডারদের জন্য এই ঘাটতি ঝুঁকি তৈরি করে; নিলামে অতিরিক্ত মূল্য প্রদান করলে পুনরায় বিক্রয়ে দ্রুত গ্রাহক না পেলে ক্ষতি হতে পারে। তাই ট্রেডাররা এখনো ছোট, সহজলভ্য প্রজাতির দিকে মনোযোগ দিতে পারে, যাতে নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল থাকে।

বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, বড় ইলিশের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে অঞ্চলীয় হোলসেলাররা ক্রয় কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। তারা সম্ভবত ঠাণ্ডা সংরক্ষণ সুবিধায় বিনিয়োগ করে বড় মাছ সংরক্ষণ করে, যাতে উচ্চমূল্য সময়ে বিক্রি করা যায়।

কুয়াকাটার স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একক বড় ইলিশের বিক্রি পরিবহন, সংরক্ষণ ও খুচরা বিক্রয়ের মতো সহায়ক সেবা প্রদান করে, যা স্বল্পমেয়াদে নগদ প্রবাহ বাড়ায়।

দীর্ঘমেয়াদে, মৎস্য বিভাগ নিয়মিত স্টক মূল্যায়ন এবং টেকসই চাষ পদ্ধতি প্রচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত শিকারের ঝুঁকি কমাতে চায়। এভাবে ভবিষ্যতে ইলিশের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে এবং বাজারের আস্থা বজায় থাকবে।

সারসংক্ষেপে, কুয়াকাটার জেলে ধরা ১.৫ কেজি ইলিশের বিক্রয় সরবরাহের ঘাটতি, মূল্য আলোচনার জটিলতা এবং উপকূলীয় মৎস্য ব্যবসার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে কাজ করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments