হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার তার মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমানের মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কিছু গোষ্ঠী সংখ্যালঘু নির্যাতন কার্ড ব্যবহার করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে চায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুর ওপর ধর্ষণ, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হিংসাত্মক হামলা, বাড়ি ও দোকানে ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব এসব ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং উল্লেখ করেন, এই ধরনের হিংসা ও নির্যাতনের পেছনে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল করা রয়েছে। তিনি সরকারেরকে এই ঘটনার দায়ী কারা তা দ্রুত সনাক্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
সাজেদুর রহমান আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর করা এই হামলা রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তিনি বিশেষ করে নারী নির্যাতন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দাবি করেন।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীও একই দিনে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তিনি বর্তমান শাসনকে ‘অধিকর্তাবাদী’ বলে সমালোচনা করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য ও দলীয় অস্ত্রধারীরা এখনও কাজ না করে বসে আছে।
ইসলামাবাদী উল্লেখ করেন, জুলাই ২০২৩-এ সংঘটিত ‘যুদ্ধের অগ্র সৈনিক’ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে গুলি করে হত্যা করা ব্যক্তি পালিয়ে যায়, যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও যুক্তি দেন, এই অক্ষমতা জুলাই বিপ্লবের স্বেচ্ছাসেবকদের নীরব করে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। জুলাই বিপ্লবের সময় হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গড়ে তোলা বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করার ইচ্ছা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এই বিবৃতিগুলোকে দেশের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কূটনৈতিক ও সন্ত্রাসী কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা দাবি করে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের তারিখ যতই নিকটে আসুক না কেন, দেশের অভ্যন্তরে একটি ‘দুষ্ট চক্র’ সক্রিয় রয়েছে, যারা ভয় ও অশান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে ভোটারদের মতামতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের কাছে আহ্বান জানায়, সংখ্যালঘু নির্যাতনের পেছনের গোপন চালকদের সনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। তারা দাবি করে, এ ধরনের হিংসা যদি দমন না করা হয়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এই মন্তব্যের পর, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থা গুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে হেফাজতে ইসলামের এই দাবিগুলোকে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংক্ষেপে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সংখ্যালঘু নির্যাতনকে নির্বাচনী হস্তক্ষেপের সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে এবং সরকারেরকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।



