নির্বাচন কমিশন (ইসিসি) আজ ঢাকার আগারগাঁও, নির্বাচন ভবনে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কেন্দ্র চালু করেছে। এই কেন্দ্রটি ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোটের পূর্বে গৃহীত, যাতে ভোট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায়।
কেন্দ্রের প্রধান কাজ হল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোট সংক্রান্ত অস্বাভাবিকতা বা প্রচারমূলক কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করা। নাগরিকরা সরাসরি ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন, যা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করবে।
প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রটি কার্যকরী হয়েছে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোটের পরের দিন, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এই সময়সীমা নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও সম্ভাব্য বিরোধ বা অনিয়মের তদারকি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।
অভিযোগ গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট ফোন নম্বরগুলো প্রকাশ করা হয়েছে: ০২৫৫০০৭৪৭০, ০২৫৫০০৭৪৭১, ০২৫৫০০৭৪৭২, ০২৫৫০০৭৪৭৪ এবং ০২৫৫০০৭৫০৬। এই নম্বরগুলোতে কল করে ভোটাররা যেকোনো ধরণের নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্যার রিপোর্ট করতে পারবেন।
ইসিসির জনসংযোগ পরিচালক মোঃ রুহুল আমিন মাল্লিকের স্বাক্ষরে প্রকাশিত প্রেস রিলিজে কেন্দ্রের কার্যক্রম, যোগাযোগের উপায় এবং কার্যকাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রিলিজে কেন্দ্রের লক্ষ্য ও দায়িত্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা হয়েছে।
এই উদ্যোগটি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোটের পাশাপাশি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে এমন সংসদীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষভাবে সমন্বয় প্রয়োজন বলে ইসিসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
কেন্দ্রের স্থাপনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটারদের সরাসরি অভিযোগের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে, যা সম্ভাব্য অশান্তি কমাতে সহায়ক হবে।
ইসিসি উল্লেখ করেছে যে, সমন্বয় কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে প্রেরণ করা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া যায়। এই প্রক্রিয়া ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখবে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে ইসিসি এই কেন্দ্রকে একটি কেন্দ্রীয় হাব হিসেবে ব্যবহার করবে। এতে তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হবে।
কেন্দ্রের কার্যক্রমের সমাপ্তি পরেও ইসিসি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য বিরোধ সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করবে। এই তথ্য ভবিষ্যতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অবশেষে, ইসিসি সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা এই সমন্বয় কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রচারণা চালাবে, যাতে ভোটারদের অধিকার রক্ষা পায় এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়।



