ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভকে লক্ষ্য করে একটি অপারেশন চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান। তিনি বুধবার একটি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, কাদিরভকে গ্রেফতার করা হলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে কঠোর সংকেত পাঠানো সম্ভব হবে। এই দাবি ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের তীব্রতা কমাতে নতুন কৌশল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
জেলেনস্কি যুক্তি দেন, পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে কাদিরভের মতো উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কাদিরভকে আটক করা যায়, তবে পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা সহজ হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তিনি ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে তিনি মডেল হিসেবে উল্লেখ করে, একই পদ্ধতি কাদিরভের বিরুদ্ধে প্রয়োগের পরামর্শ দেন। জেলেনস্কি বিশ্বাস করেন, মাদুরোর ক্ষেত্রে সফল হওয়া কৌশল রাশিয়ার জন্যও কার্যকর হতে পারে।
কাদিরভের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি জেলেনস্কির মন্তব্যকে তীব্রভাবে নিন্দা করেন। তিনি ইউক্রেনের নেতাকে ‘ভাঁড়’ বলে অভিহিত করে, ‘পুরুষোচিত’ আচরণে আহ্বান জানান। কাদিরভের মতে, জেলেনস্কি নিজের সাহস দেখাতে ব্যর্থ হয়ে আমেরিকানদের পেছনে লুকিয়ে আছেন।
চেচেন নেতা আরও বলেন, জেলেনস্কি শান্তি আলোচনার পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল করার চেষ্টা করছেন। তিনি যুক্তি দেন, ইউক্রেনের নেতা নিরাপদ দূরত্ব থেকে অন্যদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করাতে চাচ্ছেন, যা লজ্জাজনক। কাদিরভের মতে, সত্যিকারের নেতৃত্বের জন্য নিজের হাতে লড়াইয়ে নামা প্রয়োজন।
জেলেনস্কি এই আহ্বানটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কাদিরভের গ্রেফতারকে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করেন, যাতে রাশিয়ার কূটনৈতিক কৌশলকে ব্যাহত করা যায়। এই প্রস্তাবটি ইউক্রেনের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কাদিরভের প্রতিক্রিয়া ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার মন্তব্যে তিনি জেলেনস্কির কৌশলকে ‘অসামাজিক’ ও ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত করেছেন। কাদিরভের মতে, এমন কোনো অপারেশন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে এবং তা রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষা করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানকে রাশিয়ার সরকারও প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়া কর্তৃপক্ষ কাদিরভকে ‘জাতীয় নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাশিয়ার দৃষ্টিতে, কোনো বিদেশি শক্তি যদি চেচেনের নেতাকে লক্ষ্য করে, তা রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের সরাসরি হুমকি।
যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কাদিরভের গ্রেফতারকে সমর্থন করে, তবে তা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে নতুন গতিবিধি আনতে পারে। এই সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরার পেছনে জেলেনস্কি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাদুরোর ধরা পড়া রাশিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে, যা পুতিনকে যুদ্ধের পরিণতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
কাদিরভের টেলিগ্রাম বার্তায় তিনি জেলেনস্কির ‘অবৈধ’ কৌশলকে ‘অসামাজিক’ বলে সমালোচনা করে, নিজেকে রাশিয়ার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ‘প্রতিবাদী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি জেলেনস্কিকে ‘কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করে, তার নেতৃত্বের ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জেলেনস্কির এই আহ্বান ইউক্রেনের কূটনৈতিক বিকল্পকে সম্প্রসারিত করার একটি প্রচেষ্টা। যদি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো মিত্র দেশ কাদিরভের গ্রেফতারকে সমর্থন করে, তবে তা রাশিয়ার কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক আইনের সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, জেলেনস্কি এবং তার মিত্র দেশগুলো কাদিরভের ওপর কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাবে। রাশিয়া ও চেচেনের নেতৃত্বের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইউক্রেনের সংঘাতের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে।



