19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশ গঙ্গা জল ভাগাভাগি চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার চায়, দিল্লিতে জেআরসি বৈঠকে আলোচনা

বাংলাদেশ গঙ্গা জল ভাগাভাগি চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার চায়, দিল্লিতে জেআরসি বৈঠকে আলোচনা

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (JRC) বৈঠকে বাংলাদেশ গঙ্গা জলের দীর্ঘমেয়াদী ভাগাভাগি চুক্তি এবং প্রবাহের পূর্বানুমানযোগ্যতা দাবি করে। এই দাবি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত হয়, যখন ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তি মেয়াদ শেষের দিকে পৌঁছাচ্ছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা একে অপরের অবস্থান জানিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি স্থাপন করার চেষ্টা করেছে।

বাংলাদেশের দল গঙ্গা জলের গড় প্রবাহকে বর্তমান চুক্তির ৩৫,০০০ কিউসেক থেকে বাড়িয়ে ৪০,০০০ কিউসেক করার দাবি জানায়। এধরনের বৃদ্ধি দেশের কৃষি, শিল্প এবং পানীয় জলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে উভয় দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতীয় পক্ষের প্রতিক্রিয়া ছিল যে, বর্তমান চুক্তির কোনো পরিবর্তন করা হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে। তাই কোনো সংশোধন করা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, এমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, ভারতের জলসম্পদ নীতি এবং রাজ্য স্বায়ত্তশাসনের প্রতি গুরুত্ব অপরিহার্য।

এই বৈঠকটি ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তির পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করেছে। উভয় পক্ষই পরবর্তী আলোচনার জন্য ভিত্তি তৈরি করতে এই সেশনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছে। তাই, ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য সময়সূচি নির্ধারণের সম্ভাবনা উঁচু।

বাংলাদেশের দশজনের দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন JRC সদস্য মোহাম্মদ আবুল হোসেন। দলটি গঙ্গা ছাড়াও মোট ১৪টি সীমান্ত নদীর জন্য একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাবও উপস্থাপন করে। এতে মুঝুরি, খোয়াই, গোমতি, ধারাল এবং দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর ভাগাভাগি ও ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ভারতীয় প্রতিনিধিরা নতুন সংস্থা গঠনের পরিবর্তে বিদ্যমান JRC কাঠামোকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দেয়। তারা উল্লেখ করে যে, বর্তমান JRC ইতিমধ্যে সব সীমান্ত নদীর বিষয় সমাধান করে আসছে, তাই অতিরিক্ত সংস্থা গড়ে তোলার চেয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে উন্নত করা বেশি কার্যকর হবে।

দীর্ঘদিনের অনসীমিত তিস্তা জল ভাগাভাগি চুক্তি বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, তিস্তা বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল, যিনি পূর্বে এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। তাই, তিস্তা চুক্তি অগ্রসর করতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ এছাড়া যৌথ বন্যা পূর্বাভাস ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার জন্য ভারতের সমর্থন চেয়েছে। বিশেষ করে ত্রিপুরা রাজ্যের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে গত বছর পূর্ববাংলায় ব্যাপক বন্যা ঘটার পর, নিয়মিত বন্যা সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি করার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় দেশই জেআরসির কাঠামোকে পুনর্বিবেচনা করে চুক্তির শর্তাবলী সংশোধনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে। গঙ্গা জল ভাগাভাগি চুক্তির মেয়াদ শেষের আগে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হওয়া উভয় দেশের জল নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা এবং অন্যান্য সীমান্ত নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments