ঢাকায় গত রাত্রি প্রায় ২০:৩০ টায় করওয়ান বাজারের সুপার স্টার হোটেলের কাছাকাছি এক গুলিবিদ্ধ ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির স্বেচ্ছাসেবক দাল (সোয়েচ্ছাসেবক দাল) এর প্রাক্তন উত্তর ঢাকা সিটি নর্থ জেনারেল সেক্রেটারি আজিজুর রহমান মুসাব্বির গুলি চালিয়ে নিহত হন। মুসাব্বিরের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম টেজগাঁও থানার পুলিশ স্টেশনে গিয়ে অপরাধের জন্য চার থেকে পাঁচজন অপরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
টেজগাঁও থানার অফিসার‑ইন‑চার্জ কয়া শি নিউ মারমা উল্লেখ করেন, মামলায় অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং তদন্তের কাজ বর্তমানে চলমান। তিনি জানান, মামলাটি টেজগাঁও থানার দায়িত্বে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের রাজনৈতিক পটভূমি উল্লেখযোগ্য; তিনি পূর্বে ঢাকা সিটি নর্থ সোয়েচ্ছাসেবক দালের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করতেন এবং বিএনপি-র স্বেচ্ছাসেবক শাখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে স্থানীয় স্তরে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সমন্বয় এবং পার্টির বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গুলির ঘটনাস্থলটি করওয়ান বাজারের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, যেখানে সন্ধ্যাবেলা গাড়ি ও পথচারীর প্রবাহ বেশী থাকে। সূত্র অনুযায়ী, গুলি চালানোর সময় মুসাব্বির হঠাৎ করে গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখনই অজানা ব্যক্তিরা তার দিকে গুলি চালায়। গুলি চালানোর পরপরই তিনি মাটিতে পতিত হন এবং আশেপাশের লোকজন তাকে তৎক্ষণাৎ সাহায্যের জন্য ডেকে নেয়।
আহতকে দ্রুত প্যান্থাপথের বি আর বি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তে মুসাব্বিরের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত ঘোষিত হন। রোগীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে গুলির আঘাতই চিহ্নিত করা হয়েছে।
গুলির সময় একই স্থানে উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও থানা ভ্যান কর্মী ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদ, যিনি গুলির ধাক্কা পেয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। মাসুদকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার অবস্থার বিষয়ে প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে তিনি গুরুতর আঘাতের শিকার হলেও স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।
পুলিশ তদন্তে উল্লেখ করেছে, গুলির সময় কোনো গাড়ি থামিয়ে না গিয়ে গুলি চালানো হয়েছে এবং গুলির দিক নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে। এছাড়া, ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলি, গুলি চালানোর সম্ভাব্য অস্ত্র এবং সাক্ষীর বিবরণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত দল সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করবে।
মামলাটি টেজগাঁও থানার দায়িত্বে রেজিস্টার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক শোনানির তারিখ নির্ধারিত হবে। আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে, তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মামলায় অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ না করা হলেও, পুলিশ তাদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, মুসাব্বিরের মতো স্বেচ্ছাসেবক শাখার নেতার হঠাৎ মৃত্যু পার্টির স্থানীয় সংগঠনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তবে, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অনুমান করা যাবে না।
অধিক তথ্য সংগ্রহ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপডেট পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। পুলিশ জনগণকে অনুরোধ করেছে, যদি কেউ ঘটনাস্থল বা সন্দেহজনক কোনো তথ্য জানে তবে তা দ্রুত জানাতে, যাতে দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা যায়।



