ব্রিটিশ রাজকুমার অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর ১৯৮৬ সালে রাণীর উপহারস্বরূপ প্রাপ্ত সানিংহিল পার্ক, বেকশায়ার, ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডে কজাখ তিলার তিমুর কুলিবায়েভের হাতে বিক্রি হয়। বিক্রয়টি একটি বিদেশি বিনিয়োগ ফার্ম, এনভাইরো প্যাসিফিক ইনভেস্টমেন্টসের ঋণ ব্যবহার করে সম্পন্ন হয়েছে, যা ইতালির আদালতে ২০০৭ সালের এক ঘুষ স্কিমের সঙ্গে যুক্ত বলে রায় দেওয়া হয়েছে।
ইতালির প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন যে এনভাইরো প্যাসিফিক ইনভেস্টমেন্টস ২০০৭ সালে গৃহীত নগদ অর্থ একটি ঘুষের লেনদেনের ফলাফল। এই অর্থের অংশ কুলিবায়েভের মাধ্যমে অ্যান্ড্রুর প্রাক্তন সম্পত্তি কেনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তিমুর কুলিবায়েভ, যিনি তখনকার কজাখস্তানের প্রেসিডেন্টের জামাতা এবং দেশের তেল‑গ্যাস খাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, এই লেনদেনে প্রায় ৩ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি মূল্যের চুক্তি সম্পন্ন করেন, যা সম্পত্তির বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি।
কুলিবায়েভের আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলছেন যে তিনি কখনো ঘুষ বা দুর্নীতিতে জড়িত হননি এবং সানিংহিল পার্কের ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত তহবিল সম্পূর্ণ বৈধ। একই সঙ্গে, ইতালির আরেক ব্যবসায়ী কুলিবায়েভকে ঘুষ দেওয়ার স্বীকারোক্তি করেছেন, যা এই লেনদেনের পটভূমি সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রশ্ন তুলেছে।
অর্থশোধান বিশেষজ্ঞ টম কীটিং, সেন্টার ফর ফাইন্যান্স অ্যান্ড সিকিউরিটি-র পরিচালক, উল্লেখ করেছেন যে এই লেনদেনে স্পষ্ট লাল পতাকা দেখা গিয়েছে, যা যথাযথ যাচাইয়ের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, এমন লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্পদের উত্স এবং ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে দুর্নীতির অর্থের ধোয়া রোধ করা যায়।
অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর এই বিক্রয় সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ২০০৯ সালে তিনি যখন ডেইলি টেলিগ্রাফে এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, “মূল্য পরিশোধিত হলেই বিষয়টি আমার দায়িত্বের বাইরে। যদি এটাই প্রস্তাব হয়, তবে আমি অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি বিক্রয়ের আর্থিক শর্তে হস্তক্ষেপ না করার কথা প্রকাশ করেছেন।
সানিংহিল পার্কের ইতিহাসও উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৬ সালে রাণী এলিজাবেথ দ্বিতীয় অ্যান্ড্রুকে এই সম্পত্তি উপহার হিসেবে প্রদান করেন, যা তার বিবাহের সময়ের একটি ঐতিহাসিক উপহার। সম্পত্তিটি আধুনিক দুই তলা লাল ইটের নির্মাণ, বিশাল বাগান এবং প্রশস্ত পার্কিং এলাকা নিয়ে গঠিত, যা যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই বিক্রয় প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, ভবিষ্যতে রাজপরিবারের সম্পত্তি বিক্রয়ে আরও কঠোর আর্থিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন, যাতে কোনো অবৈধ তহবিলের প্রবেশ রোধ করা যায়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর নজরদারিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যাতে একই রকম লেনদেন পুনরায় না ঘটে।
এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয়ের বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্কে দুর্নীতির সম্ভাবনা এবং রাজপরিবারের সম্পদের ব্যবস্থাপনা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের লেনদেনের উপর আরও কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।



