ম্যামলেসিংহের বালুকা উপজেলার গার্মেন্টস কারখানায় ১৮ ডিসেম্বর ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের অভিযোগে কর্মী দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর, পুলিশ আরেক সন্দেহভাজীকে গ্রেফতার করেছে। ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতকে গতকাল দুপুরে ঢাকা শহরের দেমরা থানা অধীনে সারুলিয়া এলাকায় ধরা পড়ে।
অধিক তদন্তে জানা যায়, ইয়াসিন আরাফাত বালুকা গ্রাম থেকে আসা এবং শেহেবাড়ি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি মাদিনা তহফিজুল কোরআন মাদ্রাসায় শিক্ষাদান করতেন।
পুলিশের মতে, ইয়াসিন গৃহহত্যায় প্রধান ভূমিকা রাখেন এবং অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন। হত্যার পর তিনি ১২ দিন ধরে বিভিন্ন মাদ্রাসায় লুকিয়ে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সুফা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনাস্থলের সাক্ষীদের বিবরণ, কারখানা গেটের দৃশ্যের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেফতারের বিবৃতি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াসিনের জড়িত থাকা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ধরা পড়ার সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত মামলায় জড়িত অন্যান্য পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজীদের গ্রেফতার চালিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে।
দীপু চন্দ্র দাস, ২৭ বছর বয়সী গার্মেন্টস কর্মী, ১৮ ডিসেম্বর বালুকা গার্মেন্টস ইউনিটে একটি ভিড়ের হাতে মারধর ও অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন। ঘটনাটির মূল কারণ ছিল ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের অভিযোগ।
দীপুর বড় ভাই আপু চন্দ্র দাস পরের দিন বালুকা থানায় অভিযোগ দায়ের করে, যেখানে ১৪০-১৫০ অপরিচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অধিকর্তা অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন সন্দেহভাজী গ্রেফতার হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মূল সাক্ষী সিভিল কোডের ধারা ১৬৪ অনুসারে বিবৃতি দিয়েছেন।
অধিক ৯ জন অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছেন, আর ১৮ জনকে রিম্যান্ড শেষ হওয়ার পর জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান, যেখানে অবশিষ্ট সন্দেহভাজীদের বিরুদ্ধে আরও রিম্যান্ড ও বিচারিক প্রক্রিয়া চালু থাকবে। তদন্তকারী দল ভবিষ্যতে অতিরিক্ত গ্রেফতার ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।
এই ধারাবাহিক গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে মামলার সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।



