অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজে গত বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় প্রেস কনফারেন্সে বন্ডি বিচের শুটিং ঘটনার তদন্তের জন্য রয়্যাল কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। গত মাসে বন্ডি বিচে একটি ইহুদি উৎসবের সময় গুলি চালিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু ঘটায়, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলার একটি হিসেবে বিবেচিত। আলবেনিজে উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সংহতি পুনর্স্থাপনের জন্য রয়্যাল কমিশন অপরিহার্য, এবং এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নীতি গঠনে সহায়ক হবে।
বন্ডি শুটিংয়ের পরপরই শিকারের পরিবার, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পাবলিক ব্যক্তিত্ব রয়্যাল কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে একাধিকবার সরকারকে চাপ দেন। তাদের দাবি ছিল, স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি স্বাধীন ও বিস্তৃত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল কারণ ও দায়িত্বশীলদের প্রকাশ করা। এই দাবিগুলি সরকারকে শেষ পর্যন্ত রয়্যাল কমিশন গঠনের পথে নিয়ে যায়।
রয়্যাল কমিশনের ক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য তদন্ত সংস্থার তুলনায় অধিক বিস্তৃত। এটি সাক্ষী ডাকার, সরকারি নথি সংগ্রহের এবং গোপনীয় তথ্য প্রকাশের অধিকার রাখে। তাছাড়া, হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষার জন্য আইনি ব্যবস্থা প্রদান করা হয়, যা তথ্য প্রকাশে বাধা কমায়।
কমিশনের কাজের ক্ষেত্র চারটি মূল দিকের ওপর কেন্দ্রীভূত হবে। প্রথমত, অস্ট্রেলিয়ায় অ্যান্টি-সেমিটিজমের প্রকৃতি ও বিস্তার, এবং এর মূল চালিকাশক্তি বিশ্লেষণ করা হবে। দ্বিতীয়ত, সীমানা নিরাপত্তা, অভিবাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য অ্যান্টি-সেমিটিজম মোকাবিলার সুপারিশ প্রস্তুত করা হবে। তৃতীয়ত, বন্ডি বিচের হামলার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও ঘটনার ধারাবাহিকতা তদন্ত করা হবে। চতুর্থত, সামাজিক সংহতি শক্তিশালী করা এবং ধর্মীয় ও আদর্শগত উগ্রবাদের বিস্তার রোধে অতিরিক্ত সুপারিশ প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজে উল্লেখ করেন, গুলি চালানোর পেছনে থাকা উগ্রবাদের মূল কারণগুলো বুঝে সঠিক নীতি গঠন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, রয়্যাল কমিশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সরকার সবসময়ই জাতির ঐক্য ও সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেবে।
কমিশনের নেতৃত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে ডেনিস রিচার্ডসন, যিনি পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। রিচার্ডসনকে গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের পর্যালোচনার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে, যা রয়্যাল কমিশনের কাজের সাথে সমন্বয় বজায় রাখবে। তার অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বকে কেন্দ্র করে কমিশনের কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলবেনিজের মতে, রয়্যাল কমিশন গঠন করা শুধু একটি তদন্তমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং জাতীয় পুনর্গঠন ও সামাজিক সংহতির জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিকারের পরিবার ও পুরো সমাজের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া, রয়্যাল কমিশনের সুপারিশগুলো ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রয়্যাল কমিশনের মাধ্যমে সরকার গুলি চালানোর পেছনের উগ্রবাদের মূল উৎস ও সমর্থন কাঠামো উন্মোচন করতে পারবে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে সমজাতীয় সন্ত্রাসী হামলা রোধে কার্যকর কৌশল গঠনে সহায়তা করবে। তদুপরি, অ্যান্টি-সেমিটিজমের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা কর্মসূচি চালু করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হবে।
রয়্যাল কমিশনের কাজের সময়সীমা ও রিপোর্টের প্রকাশের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে সরকার ইতিমধ্যে কমিশনের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও সম্পদ বরাদ্দ করেছে। কমিশনের ফলাফল অনুযায়ী আইনসভার মাধ্যমে সংশোধনী আইন প্রণয়ন করা হতে পারে, যা অ্যান্টি-সেমিটিজম ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বন্ডি বিচের শুটিং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রয়্যাল কমিশন গঠন করে জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক সংহতি ও ধর্মীয় সহনশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হয়েছেন। এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



