কক্সবাজারের টেকনাফে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে বুধবার সকালে এক ট্রলারের জালে একসাথে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়ে। এর মধ্যে ৬৭৭টি মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়ে মোট এক মিলিয়ন টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়। ধরা মাছগুলো মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাটের মাধ্যমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বিক্রয় করা হবে।
মোহাম্মদ জাকারিয়া মালিকানাধীন ট্রলারটি মঙ্গলবার শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা হয়। নৌকায় নয়জন মাঝিমাল্লা ছিলেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন মাঝি আবুল কালাম। সন্ধ্যায় নৌকা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তরের দিকে নোঙর করে, পরের দিন জাল ছড়িয়ে লাল কোরাল ধরা যায়।
মালিক জাকারিয়া জানান, প্রথমে মাছের দাম এক মণে ২৪,০০০ টাকা নির্ধারিত হয় এবং মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় বারো লাখ টাকার দিকে যাচ্ছিল। তবে দরকষাকষির পর দাম কমিয়ে এক মণে ২৩,০০০ টাকায় বিক্রি করে মোট এক মিলিয়ন টাকায় বিক্রয় সম্পন্ন করা হয়। এই মূল্য নির্ধারণের পেছনে লাল কোরালের উচ্চ চাহিদা এবং সীমিত সরবরাহের অবস্থা রয়েছে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ উল্লেখ করেন, ধরা মাছগুলোকে বরফে সংরক্ষণ করে মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাজারে পাঠানো হবে। লাল কোরাল মাছের স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে এর চাহিদা স্থায়ী, যা বিক্রয়মূল্যকে উচ্চ রাখে।
শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান জানান, এক জালে এত বড় পরিমাণে লাল কোরাল ধরা প্রথমবারের মতো নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে এই ধরণের মাছের ধরা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি যোগ করেন, অন্যান্য ট্রলারও একই স্থানে জাল ফেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা স্থানীয় মাছ বাজারে সরবরাহ বাড়াবে।
টেকনাফ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা উল্লেখ করেন, লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ এবং সাধারণত এক থেকে নয় কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়। এই প্রজাতি উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারতীয় মহাসাগরে প্রচুর দেখা যায়, তবে এশিয়ার উত্তরের অংশ, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাংশ এবং পশ্চিম আফ্রিকায়ও এদের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লাল কোরালের সীমিত সরবরাহ ও উচ্চ চাহিদা মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। এই ধরণের মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি হলে স্বল্পমেয়াদে দাম সাময়িকভাবে কমতে পারে, তবে সরকারী নিষেধাজ্ঞা ও প্রজনন মৌসুমের সীমাবদ্ধতা দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহকে নিয়ন্ত্রিত রাখবে। ফলে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েরই লাভের সম্ভাবনা বজায় থাকবে।
অবশ্যই, গভীর সমুদ্রের মাছ ধরার ক্ষেত্রে পরিবেশগত দায়িত্ব ও সরকারি নিয়মাবলী মেনে চলা জরুরি। মৎস্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রজনন মৌসুমে ধরা নিষিদ্ধ, এবং নির্দিষ্ট কোটা অতিক্রম করা যাবে না। এই নিয়মের লঙ্ঘন করলে শাস্তি ও বাজারে সুনামহানি হতে পারে, যা ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়ায়।
সারসংক্ষেপে, টেকনাফে ধরা লাল কোরাল মাছের বড় পরিমাণের বিক্রয় স্থানীয় মৎস্য বাজারে তাত্ক্ষণিক আয় বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য ট্রলারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারী নিয়মাবলী ও পরিবেশগত দায়িত্বের প্রতি মনোযোগ বজায় রাখলে এই উচ্চমূল্যযুক্ত মাছের ব্যবসা টেকসইভাবে চলতে পারবে।



