গাজা শহরের দক্ষিণ‑পশ্চিমে অবস্থিত তেল‑আল‑হাওয়া এলাকায়, দুই বছরের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো শিশুরা আবার ক্লাসের আওয়াজ শোনাতে শুরু করেছে। অক্টোবর মাসে ইসরাইল‑হামাসের যুদ্ধবিরতির পর, ত্রাণশিবিরে স্থাপিত তামার তাঁবুতে শিক্ষার পুনরায় সূচনা হয়েছে।
তাঁবুগুলো এখন অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের কাজ করে, যেখানে শিক্ষকরা ইংরেজি অক্ষর দিয়ে ভর্তি বোর্ডে নির্দেশনা দেন এবং আরবী শব্দ লিখতে শিশুদের উৎসাহিত করেন। যদিও পরিবেশটি সাধারণ স্কুলের তুলনায় বিশৃঙ্খল ও শোরগোলপূর্ণ, তবু শিশুরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে শিখতে ফিরে এসেছে।
এই পরিবর্তনটি অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরের প্রথম পদক্ষেপ, যা দীর্ঘ সময়ের শূন্যতা ভাঙার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। দুই বছর ধরে চলমান সংঘাতের মাঝখানে, এখন ধীরে ধীরে শিক্ষার সুর ফিরে আসছে, যদিও তা এখনও সরল ও সীমিত রূপে।
লুলওয়া আবদেল ওয়াহাব আল‑কাতামি নামের প্রাক্তন বিদ্যালয়টি জানুয়ারি ২০২৪-এ বোমা হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ধ্বংসের পরের মাসগুলোতে, ওই স্থলটি স্থানচ্যুত পরিবারদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আজ, একই জায়গায় আবার শিক্ষার আলো জ্বলে, যদিও এখন তা তামার তাঁবুতে সীমাবদ্ধ।
শিশুরা একে অপরের কাঁধে হাত রেখে সরল রেখায় হাঁটছে, মুখে হাসি নিয়ে অস্থায়ী ক্লাসরুমে প্রবেশ করছে। তাদের জন্য এটি যুদ্ধের শুরু থেকে প্রথমবারের মতো নিয়মিত রুটিন ও শিক্ষার স্বাদ ফিরে পাওয়া।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ৯৭% এর বেশি স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গাজা উপত্যকার প্রায় ছয় লক্ষ অর্ধ-শিক্ষার্থী প্রায় দুই বছর ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পায়নি। এই সময়ে তারা ক্ষুধা, স্থানচ্যুতি এবং মৃত্যুর বাস্তবতা সরাসরি অনুভব করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি করা হয় যে হামাস বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে স্কুল ব্যবহার করে সামরিক কাজ করে, তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ খুব কমই প্রকাশ পেয়েছে।
গাজা উপত্যকায় মোট ৬,৫৮,০০০ শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের অধিকাংশই দীর্ঘ সময়ের জন্য শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এই অনুপস্থিতি তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা এখন ধীরে ধীরে কমে আসছে।
১৪ বছর বয়সী নাঈম আল‑আসমার, যিনি একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন, তার মা ইসরায়েলি বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধের সময় তিনি এবং তার পরিবার কয়েক মাসের জন্য স্থানচ্যুত হয়েছিল, যদিও গাজা শহরে তার বাড়ি অক্ষত রইয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর নাঈম তার পরিবারসহ বাড়িতে ফিরে এসে আবার স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমি যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছি তা এই যুদ্ধের সময় ছিল।” এবং “স্কুলে না গিয়ে আমি অনেক কিছু মিস করেছি,” এই কথাগুলো তার শিক্ষার প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।
নাঈমের মতো হাজারো শিশুর জন্য এখনো শিক্ষার পরিবেশ সীমিত, তবে তামার তাঁবুতে শিখতে পারা একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আশার আলো। এই মুহূর্তটি তাদের অতীতের স্বাভাবিক শিশুকালের এক ঝলক, যা ধীরে ধীরে পুনর্গঠন হচ্ছে।
শিক্ষা পুনরায় শুরু হওয়া গাজা শিশুরা এবং তাদের পরিবারকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করা জরুরি। আপনি কি আপনার নেটওয়ার্কে গাজা শিক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে অংশ নিতে ইচ্ছুক? আপনার ছোট্ট সহায়তাও বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।



