22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রামের লালখান বাজারে ১২ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর মামলায় দুই সন্দেহভাজন গ্রেফতার

চট্টগ্রামের লালখান বাজারে ১২ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর মামলায় দুই সন্দেহভাজন গ্রেফতার

চট্টগ্রামের লালখান বাজারে রব-৭ সদস্যরা রবিবার রাতের দিকে ১২ বছর বয়সী এক মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত দুই প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করেছে। মৃত শিশুর নাম শ্রাবন্তি ঘোষ; তার দেহ বাড়ির বামবিলের ছাদে ঝুলে পাওয়া যায়। মামলাটি বর্তমানে হত্যা বা আত্মহত্যা নির্ধারণের জন্য তদন্তাধীন।

শ্রাবন্তি লালখান বাজার সরকারী প্রাইমারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পিতা তপন ঘোষ কেপিইজ নিরাপত্তা কর্মী এবং মা রোজি ঘোষ গার্মেন্টস খাতে কাজ করেন। শিশুটি তার মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে এক কক্ষের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিল।

শুক্রবার রাতের দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশের সময় শিশুর দেহ ঝুলে থাকা দেখেন। দেহটি বাড়ির বামবিলের বাঁশের ছাদে আটকে ছিল এবং তা দ্রুতই পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ দেহটি তুলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়।

খুলশি থানা অফিসার-ইন-চার্জ জাহেদুল ইসলাম জানান, দেহটি নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার সময় গলায় গাঢ় দাগ দেখা গেছে, তবে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। দেহের অবস্থান ও দাগের ভিত্তিতে আত্মহত্যা বা হত্যা নির্ধারণের জন্য পোস্ট-মর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

পোস্ট-মর্টেম রিপোর্টে গলায় দাগের প্রকৃতি, রক্তপাতের পরিমাণ এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃতি চিহ্নিত করা হবে। ফলাফল প্রকাশের পরই সংশ্লিষ্ট আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শ্রাবন্তির মা রোজি ঘোষের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে রব-৭ দুই প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করেছে। পরিবার ইতিমধ্যে হত্যা মামলায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলাটি আদালতে দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শ্রাবন্তির মাতৃকাকা রানা দাস রবিবারই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় মৃতের পরিবার ও আইনি প্রতিনিধিরা হত্যা সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্তের ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শ্রাবন্তি ও তার পরিবার প্যানির টাঙ্কি পাহাড় এলাকায় একটি একক কক্ষের বাড়িতে থাকত, যা ভবনের তলায় অবস্থিত। বাড়িটি ভাড়া ভিত্তিক এবং সেখানে মা, ছোট ভাই এবং শিশুটি একসাথে বাস করত।

শ্রাবন্তির পিতা তপন ঘোষ কেপিইজ এলাকার নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং মাসে এক বা দুইবারই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তার কাজের কারণে তিনি বাড়িতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন না।

রব-৭ ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তৌহিদের মতে, মা রোজি ঘোষের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তি হলেন প্রতিবেশী প্রাদিপ এবং অজয়, যারা ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী বাস করতেন।

প্রাদিপের বাড়ি সরাসরি শ্রাবন্তির বাড়ির পাশে, আর অজয়ের বাড়ি দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। উভয়ই ঘটনাকালে বাড়ির ভিতরে ছিলেন বলে সন্দেহের কারণ বাড়ে।

রব-৭ এখনো সন্দেহভাজনদের ভূমিকা যাচাই করছে এবং তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রশ্নাবলী চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আরও সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

পোস্ট-মর্টেম রিপোর্টের ফলাফল এবং রাব-৭ এর তদন্তের সমন্বয়ে শীঘ্রই আদালতে মামলার দায়ের করা হবে। পরিবার ও আইনজীবীরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments