যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ১৯৬৯ সাল থেকে পারমাণবিক অস্ত্র সীমাবদ্ধতার জন্য একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে সর্বশেষ নিউ স্টার্ট চুক্তি দুই দেশের স্থাপিত সীমা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই চুক্তি ১,৫৫০টি স্থাপিত পারমাণবিক যুদ্ধবোমা পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা আরোপ করে এবং ৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। মেয়াদ শেষের আগে কোনো উত্তরাধিকারী চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু না হওয়ায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
শীতল যুদ্ধের তীব্র সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু চুক্তি তৈরি করেছিল, যদিও অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয়গুলোতে তেমন কোনো সমঝোতা হয়নি। সোভিয়েত পতনের পরও দুই দেশ ১৯৯১ সালের পরেও এই কাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা স্থিতিশীল ও পূর্বাভাসযোগ্য থাকে।
নিউ স্টার্ট চুক্তি এখন শেষের পথে, এবং উভয় পক্ষই ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে নতুন আলোচনায় মনোনিবেশ করতে পারেনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি উভয় দেশকে আরেকটি ১২ মাসের জন্য চুক্তির সীমা বজায় রাখতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানান। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হল বর্তমান সীমা বজায় রেখে পারস্পরিক বিশ্বাসের সময়সীমা বাড়ানো।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও পুতিনের প্রস্তাবে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর দেননি। পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পুতিনের প্রস্তাব গ্রহণের পক্ষে ও বিপক্ষে মতভেদে বিভক্ত। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এক মাসের বেশি সময় বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ চুক্তির পথ সুগম করা সম্ভব, এবং এটি উভয় পক্ষের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা প্রকাশের একটি রাজনৈতিক সংকেত হতে পারে।
অন্যদিকে, সমালোচকরা সতর্ক করেন যে এই সময়সীমা রাশিয়াকে নিউ স্টার্টের পরিধির বাইরে নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা বিকাশের সুযোগ দেবে। রাশিয়ার বুরেভেস্টনিক ক্রুজ মিসাইল এবং পোসাইডন টর্পেডো এমন কিছু উন্নত সিস্টেম, যেগুলো চুক্তির আওতায় নয়। ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া পারস্পরিক পরিদর্শন স্বীকার করতে অস্বীকার করেছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মস্কোর আনুগত্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ গ্রেগ উইভার, যিনি আটলান্টিক কাউন্সিলের জন্য একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছেন, উল্লেখ করেন যে পুতিনের প্রস্তাব গ্রহণ করলে চীনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক সীমা বজায় রাখার সংকেত চীনের দ্রুত বাড়তে থাকা পারমাণবিক ক্ষমতার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি না করার ইঙ্গিত দিতে পারে।
এই সম্ভাব্য সংকেত চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্র চীনের পারমাণবিক বৃদ্ধির প্রতি সাড়া না দিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে, তবে চীনকে আলোচনার টেবিলে আনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়ার অস্ত্র উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে পারস্পরিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও দুর্বল হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়েরই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একদিকে, সময় বাড়িয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠন করা সম্ভব, অন্যদিকে, চুক্তির বাইরে অস্ত্র বিকাশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে কোন দিকেই অগ্রসর হবে তা নির্ভর করবে উভয় দেশের রাজনৈতিক ইচ্ছা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক পরিবেশের উপর।
পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা হয়নি, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এই অনিশ্চয়তা কেবল পারমাণবিক স্থিতিশীলতাকে নয়, ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। সময়ের সাথে সাথে উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তই গ্লোবাল নিরাপত্তার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।



