দিল্লি, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ – তহের আজ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে জামায়াত‑ই‑ইসলামির বর্তমান আমির ভারতীয় দূতাবাসে সাক্ষাতের অনুরোধ পাঠিয়েছেন। তহেরের মতে, এই আবেদনটি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
তহেরের দাবি অনুসারে, আমিরের দল গত সপ্তাহে একটি চিঠি প্রস্তুত করে ভারতের রাজধানীর দূতাবাসে জমা দিয়েছে। চিঠিতে দু’দেশের সীমান্তে চলমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণে পারস্পরিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। তহের উল্লেখ করেন, এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কূটনৈতিক সংলাপকে সুদৃঢ় করা এবং বাংলাদেশে চলমান কিছু সংবেদনশীল বিষয়ের সমাধানে সমন্বয় সাধন করা।
এই দাবি প্রকাশের সময়, দেশের বিচার ব্যবস্থায় ১৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া “ফেলানী” হত্যাকাণ্ডের মামলায় এখনও কোনো চূড়ান্ত রায় না পাওয়ায় রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র উত্তেজনায় পরিণত হয়েছে। তহের উল্লেখ করেন, মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত টানাপোড়েনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি-র অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে দলের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। তহেরের মতে, এই প্রার্থীরা দলীয় নীতি ও কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করে, ফলে বিএনপি-র রাজনৈতিক পথের কাঁটাসোশে রূপান্তরিত হয়েছে। একই সঙ্গে, জামায়াত‑ই‑ইসলামির নেতৃত্বের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক দল রাজনৈতিক পুনর্গঠন হিসেবে দেখছেন, যদিও তহেরের মন্তব্যে কোনো বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
দূতাবাসে সাক্ষাতের অনুরোধের প্রতি ভারতের দিক থেকে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তহেরের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই সাক্ষাৎ ঘটে, তবে তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে, বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তি গড়ে তুলতে।
অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক দল এই দাবির ওপর ভিন্নমত পোষণ করছে। কিছু গোষ্ঠী দাবি করে যে, জামায়াত‑ই‑ইসলামির নেতৃত্বের এই পদক্ষেপ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং তা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলকে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা উচিত। তহেরের মন্তব্যে তিনি এই বিরোধের কোনো দিক উল্লেখ না করে শুধুমাত্র তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
বৈধিক দৃষ্টিকোণ থেকে, তহেরের প্রকাশনা দেশের কূটনৈতিক নীতিমালা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে। যদি আমিরের অনুরোধের ভিত্তিতে সাক্ষাৎ হয়, তবে তা ভবিষ্যতে উভয় দেশের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়ার কাঠামোতে নতুন নিয়মাবলী যোগ করতে পারে। তহেরের মতে, এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলা সম্ভব।
সামগ্রিকভাবে, তহেরের এই দাবি দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। তবে, এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ না থাকায় বিষয়টি পর্যবেক্ষণাধীন রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যদি সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়, তবে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি এবং ভারতীয় কূটনৈতিক নীতির উপর কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



