22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৪৫তম সভায়, যা গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়, গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্তের আগে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জুকে আহ্বান করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অধ্যাপক আব্দুল আলিম, অধ্যাপক শাহীন জোহরা, অধ্যাপক সালমা আক্তার, অধ্যাপক পিটার এবং আইন বিভাগের ছয়টি ব্যাচ থেকে প্রত্যেক ব্যাচের একজন করে পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, মোট ১২ জন শিক্ষার্থী।

কমিটির তদন্তের পর প্রকাশিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যৌন হয়রানির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। ফলে সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল আলম মাসুদ উল্লেখ করেন, “তদন্ত কমিটির নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রফেসর সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি পেনশনসহ কোনো সরকারি সুবিধা পাবেন না।”

সিন্ডিকেটের সদস্য ড. রেজাউল করিম জানান, “যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শেষে কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের আলোকে ৭৩-এর অ্যাক্টের ৫৫(৩) ধারায় পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে।”

এই ঘটনা জুলাই ২০২৪-এ দেশের গণঅভ্যুত্থানের পর, আওয়ামী লীগের পতনের সঙ্গে সাদিকুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে। অভিযোগের পর আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালায়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি ১ অক্টোবর ২০২৪-এ তার রিপোর্ট উপস্থাপন করে, যার ফলস্বরূপ সাগরকে সাময়িকভাবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সিন্ডিকেটের এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ রাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের জন্য প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তা বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত হেল্পলাইন বা কমিটিতে অভিযোগ জানানো জরুরি।

আপনার মতামত কী? আপনার ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কোন ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর হবে বলে আপনি মনে করেন?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments